মোহামেডান আবাহনী ম্যাচটা শেষ হওয়ার ১০ মিনিটে আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পুলিশ ঢুকলো যাতে করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। কিন্তু এই দুই দলের ১-১ গোলের ড্রটা এতো নিষ্প্রাণ ছিল যে, পুলিশ এসে খোশগল্পে মেতে উঠল। ম্যাচ নিয়ে কারো উত্তেজনা নেই। নিরুত্তাপ খেলা। অথচ এই দুই দলের লড়াই নিয়ে স্টেডিয়ামে কতো ঘটনাই না ঘটেছে অতীতে। কালও খুব একটা দর্শক ছিল না। গুনে দেখলে সর্বোচ্চ হাজার দুই দর্শক ছিলো মাঠে। যারা পুরনো দর্শক, ফুটবলের টানে আসেন। তারা মোহামেডান আবাহনীর হতশ্রী ফুটবল দেখে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তারপরও ধরে নেয়া যায় মধুমতি ব্যাংক স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে ভালো লড়াই হবে।
আবাহনীর সাথে ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় দুই নম্বর গ্রুপ থেকে মোহামেডান ৫ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী রানার্সআপ। সেই সাথে কোয়ার্টার ফাইনালের আট দলের লাইনআপ চূড়ান্ত হয়ে গেলো। রবিবার প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে বিজেএমসি ব্রাদার্স, সোমবার সকার ক্লাব ও শেখ রাসেল, মঙ্গলবার মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধা এবং বুধবার শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনী ও শেখ জামাল মুখোমুখি হবে। সব কয়টি ম্যাচ বিকাল ৫টায় শুরু হবে। কম ব্যবধানে আবাহনীর কাছে হারলেও মোহামেডান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতো। তবে তার চেয়েও কাল মোহামেডানের লক্ষ্য ছিল আবাহনীকে হারানো। কারণ এই ম্যাচটি মোহামেডানের কাছে ছিল মর্যাদার একটি ম্যাচ। গত দুটি ম্যাচে আবাহনী হারিয়েছে মোহামেডানকে। কাল মোহামেডানের সামনে প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ ছিল। মোহামেডান ম্যাচের ১০ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায়। আবাহনীর ঘানাইয়ান ডিফেন্ডার সামাদ ইউসুফ মাথা ছুঁয়ে বল নামিয়ে দিয়েছিলেন গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলকে। কিন্তু সোহেল বল ধরার আগেই এমিলি ছোঁ মেরে বলটা নিয়ে কোনোকুনি গড়ানো শটে জালে পাঠিয়ে দেন ১-০। ঝগড়া বেঁধে যায় আবাহনীর ফুটবলারদের মধ্যে। মোহামেডানের স্ট্রাইকার এমিলি উত্সব করনে গোলের। কিন্তু তার এই উত্সব ম্যাচ শেষে মলিন হয়ে যাবে তাই বা কে জানতো। নিজেদের দলের গোলিকপার তিতুমীর চৌধুরী টিটুর গাফিলতিতে ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র হয় ম্যাচের ৫৩ মিনিটে। স্ট্রাইকিং পজিশনে দাঁড়িয়ে দেখলেন আবাহনীর ঘানাইয়ান ফরেয়ার্ড চতুর ইব্রাহিম কিভাবে গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে গোল করলেন। ম্যাচ শেষে ইব্রাহিম বললেন ‘গোল নয়। আমি বল ক্রস করার জন্য এগিয়ে যাই। যখন দেখলাম মোহামেডান গোলকিপার ফার্স্টপুলের পাশে ফাঁক রেখে দাঁড়িয়েছেন। তখন আমি মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিজেই গোলের জন্য বল শট করি।’ মোহামেডান অধিনায়ক এমিলি বললেন, ‘আমরা বাজে গোলের কারণে ম্যাচটা ড্র করেছি। না হলে আবাহনীর জন্য ম্যাচ জেতা কঠিন ছিল।’ স্কোর লাইন ১-১ হওয়ার পরও মোহামেডান গোলের সুযোগ পেয়েছিল। এমিলি বল দিয়েছিলেন জাহিদকে। পারেননি গোল করতে জাহিদ। তবে এই ম্যাচে মোহামেডানের জার্সি গায়ে আরো দুজন বিদেশি নতুন ফুটবলার খেলেছেন। একজন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার হেনরি অন্য জন ফরোয়ার্ড দক্ষিণ আফ্রিকান বারকিনোফাসোর খেলোয়াড় জোঙ্গো উসেনি। দুজনই ভালো খেলেছেন প্রথম ম্যাচে।
