‘বাংলাদেশ সুন্দর’

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৩
জাপানের কলেজ শিক্ষার্থী মাসাকি তাসুদা মাকি আধো আধো বাংলায় বললেন, ‘বাংলাদেশ সুন্দর’। গত এক সপ্তাহের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে মাকি এ কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ তার ভাল লেগেছে। এ দেশে আবার তিনি আসতে চান। শুধু মাকি নয়, বাংলাদেশ সফরে আসা জাপানের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সবারই অভিব্যক্তি কমবেশি এ রকমই। গত ২১ মার্চ এশিয়ান হেল্থ ইনস্টিটিউট, জাপানের ১৯ সদস্যের দলটি বাংলাদেশে শিক্ষা সফরে আসে। শুক্রবার সকালে তারা জাপানে ফিরে গেছেন। ৮ দিনের শিক্ষা সফরে বাংলাদেশে আসে এ দলটি। ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এরা সরাসরি যশোর জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনে আসে। দলের অধিকাংশই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিলাসবহুল হোটেল বা রেস্ট হাউস নয়, এরা থেকেছে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের স্টাফ এবং উপকারভোগীদের বাড়িতে। দেখেছে যশোর শহরের উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও বস্তিবাসী মানুষের জীবন। শহরের শংকরপুর বস্তিতে গিয়ে সেখানকার মানুষের সাথে মিশেছে। দেখেছে পতিতালয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র, শহর থেকে দূরে সাতমাইল-বারীনগরে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের আত্মনির্ভর প্রকল্প, সংস্থার শিক্ষা কার্যক্রম, নারী সংগঠন জয়তী সোসাইটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। উন্নতির শিখরে অবস্থান করা দেশ জাপানের এই ছেলেমেয়েরা নাটোর ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনার প্রত্যন্ত গ্রামে সংস্থার অতিদরিদ্র উপকারভোগীদের বাড়িতে তিনদিন অবস্থান করে গ্রামের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা নিজেদের চোখে দেখেছে, বুঝতে চেষ্টা করেছে। ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় ছিল তাদের বিদায়ী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিনিধিদলের পক্ষে বক্তব্য দেন এশিয়ান হেল্থ ইনস্টিটিউট’র অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মি. তাকাসান ও টিম লিডার কাউরি। অনুষ্ঠানে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন চিলড্রেনস হ্যাভ্ন প্রকল্পের শিশুদের নৃত্য পরিবেশনের পাশাপাশি জাপানের এই ছেলেমেয়েরাও তাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ২৭ মার্চ তারা উপভোগ করেছেন সুন্দরবনের সৌন্দর্য। বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা-এ দেশের প্রকৃতি খুব সুন্দর। বিশেষ করে সূর্যের আলোয় ভরা বাংলাদেশ তাদের মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ গরিব হলেও অনেক আন্তরিক। বাংলাদেশকে তারা ভালোবেসে ফেলেছে।