বিমানটি দ্রুত ওড়ায় জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছিল :রাডার তথ্য

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৩
মালয়েশিয়ার যাত্রীবাহি বিমানটি কিভাবে নিখোঁজ হলে তা নিয়ে নানা মুনির নানা মতের মধ্যে সর্বশেষ রাডার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে বিমানটি অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে উড়ছিল। যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তার জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। এ কারণে এটি মহাসাগরে পড়তে বাধ্য হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতিতে ওড়ার কারণে এটির ইঞ্জিন বেশি পরিমাণে জ্বালানী ব্যবহার করতে থাকে। মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষের প্রধান আজহারউদ্দিন রহমান গতকাল কুয়ালালামপুরে সাংবাদিকদের বলেন, সিয়াটলে বোয়িং বিশ্লেষকরা এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি গাড়ি যেমন হাইওয়েতে অস্বাভাবিক গতিতে চালালে সেটি দ্রুত তার জ্বালানি খেয়ে ফেলে, বিমানও যদি তার গতিসীমা না মেনে চলে তবে জ্বালানি ট্যাংক দ্রুত খালি হয়ে যায়। বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে পাইলট দ্রুত ওড়াচ্ছিলেন নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটি হয়েছিল তা ব্ল্যাকবক্স খুজেঁ পেলে বের করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে বিবিসি জানায়, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ ফ্লাইট৩৭০ কে খুঁজে পাবার জন্য তল্লাশি এখন ভারত মহাসাগরের নতুন এলাকায় চালানো হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যারিটাইম সেফটি অথরিটি বা এ্যামসা বলছে, নতুন এবং ‘গ্রহণযোগ্য’ সূত্র পাওয়ায়, আগের অনুসন্ধান এলাকা থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই নতুন এলাকায় একটি অনুসন্ধানী বিমান মহাসাগরে কিছু নতুন ‘বস্তু’ দেখতে পেয়েছে। তবে এই বস্তুগুলোকে যাচাই করে সনাক্ত করার জন্য এলাকায় নৌযান পাঠাতে হবে, যেটা আগামীকালের আগে সম্ভব হবে না বলে এ্যামসা জানিয়েছে। নতুন এলাকায় নিউজিল্যান্ড বিমান বাহিনীর একটি ওরাইওন উড়োজাহাজ ১১টি বস্তু দেখতে পায়, যেগুলো এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর আগে, অস্ট্রেলিয়া এবং মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, যে রাডারের তথ্য পুনরায় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিখোঁজ বিমানটি আরো দ্রুত গতিতে উড়ছিল, অর্থাত্ তার জ্বালানি আরো তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছিল। এর ফলে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ খোঁজার কাজ তারা আরো উত্তর-পূর্বে নিয়ে গেছেন। গতকাল সকাল পর্যন্ত, তল্লাশি কার্যক্রম অস্ট্রেলীয় শহর পার্থ-এর ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে চালানো হচ্ছিলো। কুয়ালা লামপুর থেকে বেইজিং গামী এই বিমানে ২৩৯জন আরোহী ছিলেন। বিমানটি মার্চ মাসের ৮ তারিখে নিখোঁজ হয়। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, যে ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের কোন এক জায়গায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ধারণ করা ছবি দিয়ে বেশ কয়েকটি দেশ সাগরে ভাসমান বস্তু চিহ্নিত করেছে, কিন্তু পরবর্তীতে এই বস্তুগুলোকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।