তালায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক খনন কার্যক্রমে অস্তিত্ব মিলছে আদি-মধ্যযুগের। উপজেলার আগোলঝাড়া ও ডাঙ্গানলতা গ্রামের মধ্যবর্তী ঝুড়িঝাড়ার মাঠের উঁচু মাটির ঢিঁবিতে গত ৭ নভেম্বর ক্যাম্প স্থাপন ও ১১ নভেম্বর থেকে শুরু করে এ খনন কাজ। এর আগে ২০১২ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ নিজেদের আওতায় নিয়ে স্থানটি সংরক্ষণ করে। জেলার প্রথম শুরু হওয়া খননে ইতোমধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ধারণা করছে, আদি ও মধ্য যুগের মাঝামাঝি সময়ের স্থাপনা এটি। প্রায় দু’সপ্তাহ খননে তারা ঐ সময়ের মৃিশল্পের কিছু নমুনা বা নিদর্শন ও ব্রিটিশ শাসনামলের একটি কয়েন (মুদ্রার) সন্ধান পেয়েছেন। তবে সেখানে প্রাপ্ত বাড়ির নকশা ও ইটের গাঁথুনি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এর আগে ১শ’ বছর বা তার কিছু সময় আগে-পড়ে গুপ্তধন কিংবা অন্য যে কোনো কারণে সেখানে খনন বা তছরুপ করা হয়েছিল।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খুলনার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান জানান, যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভরত-ভায়নার পর এ পর্যন্ত এ জনপদে তারা বিশেষ কোনো খনন কাজ কিংবা কোনো পুরাকীর্তির সন্ধান পায়নি। তবে তালার এ খননে তাদের কাছে আশা সঞ্চারিত হয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে নমুনা দেখে তারা ধারণা করছেন, আদি ও মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ের কোনো স্থাপত্য এটি।
তিনি জানান, ২০১২ সালে সেখানকার ৫০ শতাংশ জমি করায়ত্ত করে তারা সংরক্ষণ করে আসছে। তবে জনবল থেকে শুরু করে নানা সংকটে এর প্রায় ৬ বছর পর তারা খনন কাজ শুরু করে। এলাকাবাসী প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির অনুসন্ধান বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, সহযোগিতা করছেন অধিদপ্তরকে। স্থানীয় থানা-পুলিশও তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী কাস্টরিয়াম মোঃ শাহিন আলম জানান, বহু বছরের পুরনো এই মাটির ঢিবিটি এলাকায় ঝুড়ি-ঝাড়ার মাঠ নামে পরিচিত। এলাকাবাসী অবশ্য এলাকাটির নামকরণ নিয়ে নানা প্রচলিত উপাখ্যানের কথা বলেন, অনেকের দাবি তাদের পূর্ব পুরুষদের ভাষ্যমতে, প্রাচীনকালে সংঘবদ্ধ জিন চক্র একরাতে পাশের একটি পুকুর কেটে সেখানকার মাটি ঝুড়ি ঝাড়েন সেখানে। অনেকে আবার বাগেরহাটের খাঁজা খানজাহান আলীর শিষ্য বা অনুসারীদের ধর্ম প্রচারে জনপদে আসলে বিভিন্ন সময় তাদের অলৌকিক ক্ষমতাবলের নিদর্শনস্বরূপ বাড়িটি নির্মিত হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করেন। তবে বাস্তবতা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আশঙ্কাকেই মূল্যায়ন করছে অন্যভাবে। ইতোমধ্যে খননকৃত ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ব্রিটিশ আমলের একটি কয়েন পাওয়ায় এবং ভবনটির বিভিন্ন ওয়াল এলোপাতাড়িভাবে আগেই অস্তিত্বহীন থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ১শ’ বছর কিংবা তারও আগে-পড়ে সেখানে রত্ন ভাণ্ডার বা অন্যকোনো উদ্দেশ্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। তবে সেখানে যাই ঘটুক, আদি কিংবা মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ে সভ্য মানুষের বসবাস ছিল তারই বার্তা বহন করে। তবে সেটি কোনো সময় বা কোনো বংশের শাসনামলে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কিছুদিন।
