শাড়ির কাজে কর্মসংস্থান পেয়েছে হতদরিদ্ররা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২১:৪৩
সমিতির নাম স্বপ্নের সিঁড়ি বহুমুখী উন্নয়ন সংগঠন। এটি একটি কমিউনিটি-বেইজড্ অর্গানাইজেশন। হাওর অধ্যুষিত নিকলী উপজেলার দৌলতপুর-মেস্তরীপাড়া গ্রামে এই সংগঠনের জন্য একটি ঘর তৈরি করে দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পপি’র রিকল প্রকল্প। এই ঘরে রয়েছে ৮টি কাঠের তৈরি ফ্রেম। এই কাঠের ফ্রেমকে ঘিরে ৩০ জন নারী ও কিশোরী সুনিপুণ হাতে শাড়িতে জরি ও চুমকির কাজ করছে। এরা সবাই এ সংগঠনের সদস্য। পপি’র রিকল প্রকল্প জরি ও চুমকির কাজের ওপর তাদেরকে সাতদিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ঘর ছাড়াও কাঠের ফ্রেমগুলোও তারা তৈরি করে দিয়েছে। আলাপ হয় উক্ত গ্রামের শহর বানুর (৩০) সঙ্গে। তার স্বামী আবু সালেক বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন। আগে কৃষি কাজ করতেন। গত নয় বছর ধরে স্বামীর আয়-রোজগার বন্ধ। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে শহর বানু খুব কষ্টে জীবন-যাপন করতেন। অন্যের বাড়িতে ফাই-ফরমাশ খেটে কোনরকমে খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করেছেন তিনি ও তার পরিবারের লোকজন। পপি’র মাঠকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ হওয়ার পর তারা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন। এখন সকাল-বিকাল অফিসঘরে বসে জরি-চুমকির কাজ করে মাসে এক হাজার থেকে এগার শ’ টাকা পর্যন্ত রোজগার করতে পারছেন। তাছাড়াও ছুটির দিনে কিংবা অবসরে বাড়িতে বসেও ফ্রেমে জরি-চুমকির কাজ করেন তিনি। এসময় তাকে সহায়তা করেন তার মেয়ে রোকসানা(১৩)। এ থেকেও তার অতিরিক্ত আয় হয়। নারী শ্রমিকরা জানান, তারা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না, তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়। তাদেরকে শাড়ি এবং জরি-চুমকির যোগান দেন স্থানীয় উদ্যোক্তা সবিতা রানী দাস। তিনি পাইকার রহিমের কাছ থেকে এসব সংগ্রহ করে সংগঠনের সদস্যভুক্ত ছাড়াও বাড়ি গিয়ে মহিলাদের সরবরাহ করে থাকেন। এতে শাড়ি পিছু তিনি ৩০ টাকা করে পান। জরি-চুমিকের কাজ শেষ হলে পরে পাইকারকে শাড়িগুলো ফেরত দেয়া হয়। ঢাকায় মহাজনদের নিকট বিক্রি হবার পর পাইকার শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করে থাকেন। সবিতা রানী দাস জানান, তার পুঁজি থাকলে তিনি নিজে ঢাকা থেকে শাড়ি এবং জরি-চুমকি সংগ্রহ করে মহিলাদের মাঝে সরবরাহ করতে পারতেন। এতে তার এবং নারী শ্রমিকদেরও উপার্জন বাড়ত। ২ লাখ টাকা ঋণের জন্য তিনি সরকারি বেসরকারি সংস্থাসমূহের দ্বারে ঘুরছেন। পপি’র ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর নাসিমা খাতুন জানান, নিকলী উপজেলার দৌলতপুর, বিয়াতিরচর, পাড়া বাজিতপুর, গুড়ই কোনাহাটি, ছেত্রা, আজিতপুর প্রভৃতি গ্রামে প্রায় চারশ’ নারী ও কিশোরী এই কাজের সঙ্গে জড়িত। পপি এ পর্যন্ত দুই ব্যাচে ১২০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তিনি জানান, সমিতিভুক্ত সদস্যরা সঞ্চয়ের জন্য সাপ্তাহিক ৫০ টাকা করে গ্রামীণ ব্যাংকের হিসেবে জমা দেন। তাদের লক্ষ্য, জমাকৃত টাকা দিয়ে তারা ব্যক্তিগত কিংবা সমিতির সমষ্টিগত পুঁজি গঠন করবেন। পপি রিকল প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী ওবায়দুল ইসলাম জানান, পপি হাওরে সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র নারীদের নিয়ে তাদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে।