মাশরাফি-শেহজাদের বিপরীত দিন

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৪, ২২:২৯
মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুই জনেরই মুখ বারবার ক্যামেরায় ধরা হল। ব্যাট উঁচু করে হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়ছেন আহমেদ শেহজাদ এবং মাথাটা নিচু করে, মুখ কালো করে ফিরছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কষ্ট, ব্যথা; এগুলো মাশরাফির জন্য নতুন কিছু নয়। গতকালও ব্যথা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু কোনো যন্ত্রণাই তার মাথা নিচু করে দিতে পারে না। বাংলাদেশের এই একজন ক্রিকেটার, সবসময় অন্তত লড়াই করে নিজের মাথাটা উঁচু রাখেন। কিন্তু গতকাল সেই লড়াকু মাশরাফিরও দিনটা তেতো হয়ে গেল। মূলতঃ আহমেদ শেহজাদের মারাত্মক ব্যাটিংয়ের কোপে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বোলিং বিশ্লেষণটা স্পর্শ করে ফিরতে হল মাশরাফিকে। সেই সঙ্গে পুরো চার ওভার বল করা বোলারদের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় জঘন্যতম ইকোনমি রেটেও নাম লিখিয়ে ফেললেন দেশসেরা এই পেসার। উল্টো পিঠে শেহজাদের ব্যাট উঁচু, হাসি মুখের কারণ বুঝতে কষ্ট হয় না। নিজের প্রথম এবং এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি নিয়ে ফিরলেন তিনি কয়েকটা জীবন পাওয়ার পরও। শেষ পর্যন্ত নেলসন নম্বর, ১১১-তে অপরাজিত রইলেন। মাশরাফির শুরুটা অবশ্য খুব খারাপ ছিল না। বাংলাদেশ খারাপ করলেও আগের ম্যাচগুলোতে যেমন আটোসাটো একটা শুরু এনে দিয়েছেন, গতকাল ততোটা না পারলেও প্রথম ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র পাঁচ রান। কিন্তু পরের ওভার করতে এসেই শেহজাদের আক্রমণের শিকার হন তিনি। ১৮ রান দিয়ে ফেরেন এই ওভার থেকে। বিরতি দিয়ে তৃতীয় ওভার করতে আসেন তিনি ইনিংসের ১৬তম ওভারে। শেহজাদ সেবারও মাশরাফিকে আক্রমণ করে বসলেন। এবার তুলে নিলেন ১৬ রান। তবে ইনিংসের ১৯তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসে ওই শেহজাদকেই তুলে নিতে পারতেন তিনি। প্রথম বলে শেহজাদ ছক্কা মারলেও পরের বলেই ক্যাচ দিয়েছিলেন। তামিমের বিশ্বস্ত হাত সে ক্যাচ ধরেও ফেলেছিল। কিন্তু কপাল! যে মাশরাফি খুব একটা নো-বল করেন না, সেই মাশরাফিরই বলটা ছিল বেশ বড় ব্যবধানে নো-বল! এরপর এই ওভারে আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। তিনটি ছক্কাসহ এই ওভারে মাশরাফি ব্যয় করেন ২৪ রান। সবমিলিয়ে ৪ ওভারে ব্যয় করেছেন মাশরাফি ৬৩ রান। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে চার ওভারে ৬৩ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে বোলারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন রুবেল হোসেন। গতকাল মাশরাফি তাকে স্পর্শ করলেন। অবশ্য চার ওভারে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী রান দেয়ার পুরোনো রেকর্ডটা এখনও সনথ জয়াসুরিয়া ও জেমস অ্যান্ডারসনেরই আছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে এই দুই জন রেকর্ডটা করেছিলেন। মাশরাফির এমন দুঃখের দিনে শেহজাদ পেয়ে গেলেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ম্যাচ শুরুর আগে টিভিতে দেখানো হচ্ছিল, শেহজাদ ৪৫ রান করেছেন এমন কোনো ম্যাচে পাকিস্তান হারেনি। ৪৫ তো বটেই, ১১১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ৬২ বলে ১০টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস খেলার পথে সবচেয়ে বেশী ঝড় শেহজাদ চালিয়েছেন মাশরাফির ওপরই। মাশরাফির ১৬ বলে নিয়েছেন ৩৯ রান। এ ছাড়া জিয়া পাঁচ বল করেছেন শেহজাদকে; তাতেই রান উঠেছে ২১! এরপর নিশ্চয়ই আর শেহজাদের দাপটটা বোঝাতে হবে না!