মেরামতের অভাবে চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালগুলোতে মূল্যবান চিকিত্সা সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেরামত কাজ নিয়ে প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতায় বছরের পর বছর পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চিকিত্সা সরঞ্জামগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের কোন মেরামত কারখানা নেই। গাড়ির ডকুমেন্ট ও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগে গাড়িগুলো রেজিস্ট্রেশনবিহীন চলাচল করছে। এতে গাড়ি নষ্ট হলে টেন্ডার প্রক্রিয়া করা যায় না।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক ডা. আলাউদ্দীন মজুমদার ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘সামান্য মেরামত কাজের জন্য ৩০/৪০ হাজার টাকার মেশিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বান্দরবানে মেডিক্যাল ওয়ার্কশপটি নামেমাত্র চালু রয়েছে। কোন কাজ হয় না। চট্টগ্রামে একটি মেডিক্যাল ওয়ার্কশপ করার জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।’
সিভিল সার্জন অফিস জানায়, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। এসব হাসপাতালে চিকিত্সা সরঞ্জাম বলতে ইসিজি ও এক্স-রে মেশিন থাকে। আর রোগী পরিবহনের জন্য রয়েছে এ্যাম্বুলেন্স। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইসিজি ও এক্স-রে মেশিন অচল হয়ে পড়ে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কোন মেরামত কারখানা নেই। টেকনিশিয়ানের কোন সৃষ্ট পদ নেই। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব হাসপাতালে চিকিত্সা সরঞ্জাম নষ্ট থাকায় চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র রোগীরা। সামান্য টাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে ২০/৩০ হাজার চিকিত্সা সরঞ্জাম। বাঁশখালী উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হক জানান, ইসিজি মেশিন চালু থাকলেও একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি গত ৩ বছর যাবত্ অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। মেরামতের জন্য অনেক চিঠি লেখালেখি হয়েছে। প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে মেরামত করা যাচ্ছে না। মিরসরাই উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম তবারক উল্লাহ জানান, তার ইসিজি মেশিনটি গত সাড়ে ৩ মাস যাবত্ অচল অবস্থায় রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের লাইসেন্স নেই। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া করা যায় না।
মেরামত কাজ নিয়ে জটিলতা নিরসনে কোন উদ্যোগ কাজে আসছে না। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে টেকনিশিয়ানের সৃষ্ট পদ থাকলে ছোটখাটো মেরামত কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তি হতো না। এতে রোগীরা সরকারি সেবা পেত। বান্দরবানে একটি মেরামত কারখানা রয়েছে। সেটিতে কোন জনবল নেই। কোন মেরামত কাজ হচ্ছে না। চট্টগ্রামে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি হাসপাতালের মধ্যে প্রতিটিতেই ইসিজি ও এক্স-রে মেশিন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা গাড়ির ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি। কোন অর্থ বরাদ্দ না থাকায় রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না। রেজিস্ট্রেশন না থাকলে অচল হয়ে পড়া গাড়ির মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া করা যায় না। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে নানা সমস্যায় জর্জরিত। রোগী আনা-নেয়ার টলি, হুইল চেয়ার, ঔষধ রাখার স্টোর নেই। গত এক যুগের মধ্যে চট্টগ্রামে সরকারিভাবে হাসপাতালগুলোতে কোন ফার্নিচার সরবরাহ করা হয়নি। একটি গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করতে ২০/৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই খাতে কোন অর্থ বরাদ্দ নেই।’
প্রতিটি উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য একজনমাত্র চালকের পদ রয়েছে। কিন্তু ৮ ঘন্টা করে ডিউটি করলে ৩ জন চালকের প্রয়োজন হয়। চালক না থাকায় অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
