মেকআপ বা সাজগোজ মানেই যে সারাদিন আয়নার সামনে বসে থাকতে হবে তা নয়। ব্যস্ততার মাঝে মেকআপের জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা প্রায়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ঝটপট মেকআপ ম্যাজিক সম্পর্কে জানলে খুব কম সময়ে নিজেকে সাজানো যায়। এ নিয়ে রইল কিছু পরামর্শ
সুন্দর মুখের কদর সবখানেই। সুন্দর চেহারা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব আর মোহনীয় হাসি দিয়ে অনেক কিছুই জয় করে নেওয়া সম্ভব। সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই বলে সবাই যে স্রষ্টা প্রদত্ত সৌন্দর্য নিয়ে পৃথিবীতে আসে তা কিন্তু নয়। স্রষ্টা প্রদত্ত সৌন্দর্যের অধিকারী না হয়েও আপনি সুন্দর হয়ে উঠতে পারেন যদি নেপথ্যে যথার্থ মেকআপের বিষয়টি যোগ করা যায়। মেকআপের ম্যাজিকে নিজেকে রূপবতী করে তোলার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় খুবই জরুরি। একটি হলো নিজের চেহারার খুঁতগুলোকে ধরতে পারা, আরেকটি হচ্ছে মেকআপ কৌশল বা মেকআপের ব্যাকরণগুলো আয়ত্তে রাখা। মেকআপের ব্যাকরণগুলো আয়ত্তে আনার জন্য প্রথমে মেকআপ কিট সম্পর্কে সুস্পষ্ট একটি ধারণা থাকতে হবে। এরপর মেকআপ কিটের ব্যবহারটা কীভাবে করলে চেহারার খুঁতগুলো ঢেকে যাবে সে বিষয়টি রপ্ত করতে হবে। মেকআপ করার আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিস্কার করে নিন। টোনার দিয়ে মুখ ভালো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এবার স্পঞ্জ দিয়ে মুখ, ঘাড়, গলায় হালকা করে লাগান। ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। ফাউন্ডেশন দেওয়ার পরও মুখে যদি সূক্ষ্ম রেখা, ভাঁজ বা দাগ থাকে তা হলে কনসিলার ব্যবহার করুন। ফেস পাউডার দিয়ে ফাউন্ডেশনটা বসিয়ে নিন। এরপর চোখের মেকআপ শুরু করুন। চোখের নিচে কালি থাকলে ৩ ফোঁটা কনসিলার চোখের নিচে দিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বোল্ড করে নিন। চোখের আকৃতি অনুযায়ী আই শ্যাডো লাগান। এরপর লাগান আই লাইনার আর সবশেষে মাসকারা। ব্লাশন লাগান চিক বোন বরাবর। ব্লাশন ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন তা যেন কোনোভাবে উগ্র না হয়ে যায়। লিপস্টিক এবং ব্লাশের রঙের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকাটা ভালো মেকআপের জন্য জরুরি। লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁটে একে নিন। এরপর লিপ ব্রাশ দিয়ে লিপস্টিক লাগান।
কপাল
কপাল যদি চওড়া হয় তাহলে মুখে যে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন তার থেকে তিন শেড গাঢ় রং ব্যবহার করুন। কপালের দু’ পাশ থেকে মাঝখান পর্যন্ত মেকআপটা ব্লেন্ড করে নিন। মেকআপ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটু ম্যাট শেড বেছে নিন, এতে করে কপাল নিচু দেখাবে।
চোখ
বসা বা গর্তে ঢোকা চোখ হলে চোখের পাতার নিচে মোটা করে ব্রাউন বা কালো আইলাইনার লাগান। চোখের উপর সরু করে আইলাইনার লাগিয়ে নিন। মিডিয়াম টোনের আইশ্যাডো লাগান। বড় চোখের ক্ষেত্রে কাজল বা আইলাইনার যাই লাগান না কেন খুব সরু করে পড়ুন। আইশ্যাডো হতে হবে ডার্ক শেডের। চোখের উপরে এবং নিচের পাতায় মাশকারা লাগিয়ে নিন। চোখ টানা টানা হলে চোখের ভিতর থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত টানা আইলাইনার লাগান। চোখের ভিতরের দিকের কোণে ডার্ক শেডের আইশ্যাডো লাগান। চোখের আকার ছোট হলে ভিতর থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত আইলাইনার লাগান। চোখের পাতার উপরের কোণে মিডিয়াম টোনের আইশ্যাডো লাগান।
নাক
টিকালো নাকের ক্ষেত্রে দু’ ধারে লাইট শেডের ফাউন্ডেশন এবং কম্পাক্ট লাগান। নাকের চারপাশে লাইট শেডের ব্লাশ লাগান। নাক একটু ভোতা হলে দু পাশে ডার্ক শেডের ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। এতে করে নাক শার্প দেখাবে। নাকের উপরের অংশে লাইট শেডের ফাউন্ডেশন এবং কম্প্যাক্ট লাগিয়ে নিন।
গাল
গাল বসা হলে ঠোঁটের কোণ থেকে কান পর্যন্ত লাইট শেডের ফাউন্ডেশন এবং কম্প্যাক্ট লাগান। মুখের শুধু ওই জায়গাটুকুতে ব্লাশ ব্যবহার করুন। মেকআপ নিখুঁতভাবে ব্লেন্ড করে নিন। গাল ফোলা হলে ফোলা অংশে ডাক শেডের ফাউন্ডেশন এবং কম্প্যাক্ট ব্যবহার করুন। মুখের অন্যান্য অংশের মেকআপের সঙ্গে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। যাদের ডবল চিন রয়েছে তারা লাইট শেডের ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। ক্রিম বেজড ফাউন্ডেশনের বদলে ওয়াটার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। এক শেড গাঢ় ফাউন্ডেশন এবং ফেস পাউডার দিয়ে চোয়াল থেকে কান পর্যন্ত লাগিয়ে মুখ ও গলার ত্বকের সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন।
ঠোঁট
পাতলা ঠোঁটের ক্ষেত্রে লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁটের আউটলাইন আঁকুন—একটু বাইরে থেকে লিপস্টিক লাগানোর সময় খেয়াল রাখুন লিপস্টিক যেন আউট লাইনের বাইরে না যায়। লিপ গ্লাস লাগান। ঠোঁট একটু মোটা হলে ফাউন্ডেশন এবং কনসিলারের সাহায্যে ঠোঁটের আউটলাইন মুখের ত্বকের সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। লিপলাইনারের রেখা টানুন ঠোঁটের ভিতরের দিক দিয়ে। এতে ঠোঁট পাতলা দেখাবে। উপরের ঠোঁট নিচের ঠোঁটের তুলনায় পাতলা হলে উপরের ঠোঁটে লিপ লাইনারের সাহায্যে একটু বাইরে থেকে আউটলাইন এঁকে নিন। উপরের ঠোঁটের মাঝখানে ‘ভি’ শেপের জায়গায় একটু গাঢ় করে টানুন উপরের ঠোঁটে গাঢ় করে লিপস্টিক লাগান। গাঢ় শেডের ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করাই ভালো।
গায়ের রং বুঝে মেকআপ
গায়ের রং বুঝে প্রত্যেকের মেকআপ করা উচিত। গায়ের রং ফর্সা হলে গাঢ় রঙের বদলে প্যার্সেল শেড বেছে নিন। চোখের জন্য ব্লু বা ল্যাভেন্ডার শেড হবে। গায়ের রং কালো হলে ফাউন্ডেশন নির্বাচন করার সময় যতটা সম্ভব স্বাভাবিক গায়ের রঙের কাছাকাছি শেড ব্যবহার করুন। ফেস পাউডারের বদলে বেবি পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। লিপস্টিকের ক্ষেত্রে ব্রাউন, মেরুন, পিংক বেছে নিতে পারেন। উজ্জ্বল শ্যামলা ত্বকের জন্য হলুদ ঘেষা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। আই শেডের ক্ষেত্রে টোনস, ব্রাউন, কপার বা পার্পল ব্যবহার করতে পারেন।
বুদ্ধি-বিবেচনা ও রুচিবোধকে ঠিকমতো কাজে লাগান
মেকআপটা যদি যথার্থ সুন্দর না হয় আপনার গায়ের রং ও চেহারার সঙ্গে মানানসই না হয় তাহলে সব চেষ্টা ও পরিশ্রম মাটি হয়ে যাবে। পাশাপাশি সবার সামনে আপনি কুিসত অসুন্দর হিসেবে গণ্য হবেন। এসব কারণেই ভালো মেকআপের সঠিক কৌশলগুলো মোটামুটি রপ্ত করে নেওয়া দরকার সব মেয়েদেরই। মেকআপের সময় নিজের বুদ্ধি বিবেচনা, রুচিবোধ, ফ্যাশন ভাবনা, চলতি ট্রেন্ড ইত্যাদি ব্যাপারগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত অবশ্যই।
