কুটুমবাড়ি ০ কিলোমিটার! লেখাটি ঢাকার লালমাটিয়ার এফ ব্লকের রাস্তার মাইলফলকে লেখা। যান্ত্রিক শহরে রীতিমতো আহ্বান দিয়ে কুটুমবাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ! এ আমন্ত্রণ এড়িয়ে যাবেন নাকি ভিতরে ঢুকে কুটুমদের আপ্যায়ন গ্রহণ করবেন সেটা আপনার ব্যাপার। তবে আপনার অবগতির জন্য বলে রাখি, এই কুটুমবাড়িতে কিন্তু সবার নিমন্ত্রণ সবসময়ের জন্য। গেলে আন্তরিকতা তো পাবেনই, পাবেন মনোমুগ্ধকর আতিথেয়তা। সম্প্রতি তাদের খাবারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সামুদ্রিক খাবার। ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
ভেতরে পা ফেলতেই ছোট্ট দুটি ঘর। ঢুকতে মনে হবে কোনো গ্রামে এসে পড়লাম। ঘরের চারপাশে বাঁশের তৈরি বেড়া। জানালায় বাশের চিক, আসবাব হিসাবে বাশ ও বেতের তৈরি চেয়ার টেবিল। টেবিলের উপরে ঝুলে আছে গ্রামের ঐতিহ্য হারিকেন। শুধু কী নিরিবিলি আর গ্রামীণ পরিবেশেই সীমাবদ্ধ কুটুমবাড়ির আয়োজন। না, এর খাবারেও রয়েছে স্বকীয়তা। আর তাই প্রতিদিনই ঢাকার ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কুটুমবাড়ি।
সম্প্রতি সামুদ্রিক নানান স্বাদের মাছ আর খাবারের পসরা সাজিয়েছে তারা। আর ধানমন্ডিতে এ রকম খাবার আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না। সামুদ্রিক খাবারের এক্সপার্ট এক শেফ সার্বক্ষণিক নিবেদিত আপনার আপ্যায়নে। হরেকরকম খাবারের মাঝে এখানকার ‘মোগল খাবার’ বেশি চলে। ইরানি বিরিয়ানি, তেহেরানি তেহারি, দিল্লিকা খিচুড়ির প্যাকেজ মিলছে। প্যাকেজে ফ্রেশ সালাদের সাথে থাকে জিভে পানি আনা আচার। এই আচার মূলত মৌসুমি ফল দিয়ে বানানো হয়ে থাকে। এছাড়াও ইরানি মোরগ পোলাও পাওয়া যাচ্ছে। ইরানি খাবারের সব মশলা ইরান থেকেই আমদানি করা হয় বলে জানান এর পরিচালক। এর দোতলায় রয়েছে বেশ বড় এবং খোলামেলা জায়গা। দেয়ালে বিখ্যাত মনীষীদের ছবি। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই কক্ষে যেকোনো ব্যক্তিগত অথবা অফিসিয়াল পার্টির আয়োজন খুব সহজেই করা যায়। ১৮০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এই কক্ষে। বিয়ে, জন্মদিন কিংবা যেকোনো পার্টি দিতে আগেই বুকিং করতে হয়। খাবারে প্যাকেজ পছন্দমতো বাছাই করা যাবে।
মাইল ফলকে কুটুমবাড়ি শূন্য কিলোমিটার লেখার কারণ জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানান, ‘এই মাইল ফলক ধরেই পথ এগিয়ে যায় দূর থেকে দূরে, ঠিক তেমনি এই মাইল ফলক ধরেই কুটুমবাড়ি এগিয়ে যাবে দেশের প্রান্ত থেকে প্রান্তরে। আর শূন্য কিলোমিটার বলতে এখানে শেষ লক্ষ্য বোঝানো হয়েছে যেখানে গেলেই আমাদের উদর পূর্তি হবে।’ ছিমছাম ইন্টেরিয়র দেখলেই বোঝা যায় এখানে মানুষ শুধুই খাবার উপভোগ করতে আসে, আর কিছুর জন্য নয়। আসলে কুটুমবাড়ির খাবার মেন্যু আর দাম দেখলেই বোঝা যায় প্রায় সব শ্রেণীর মানুষের জন্য খাবার যোগাড়েই যেন ব্রত কুটুমবাড়ি খাবার ঘরটি।
কুটুমবাড়ির আয়োজন শুধু খাবারের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় নানারকম জনসচেতনতার কুটুমবাড়ি কাজ করছে। ঢাকার যানজট নিরসনে ও নদী রক্ষায় রয়েছে তাদের জনসচেতনতামূলক কাজ। বাইরের দেয়ালে টানানো রয়েছে জনসচেতনতামূলক ব্যানার। ভেতরের দেয়ালেও রয়েছে ছোট ছোট পোস্টার। এর টাকার আদলে বানানো নতুন ধরনের খাবারের তালিকার একপাশে রয়েছে যানজটমুক্ত ও নদী রক্ষায় করণীয় বিভিন্ন স্লোগান।
এ ক ন জ রে
কোথায় :কুটুমবাড়ি ০ কি.মি., লালমাটিয়া, ঢাকা
কবে যাবেন :প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
কী খাবেন :এখন গেলে অবশ্যই তাদের নতুন সামুদ্রিক আয়োজন খেয়ে দেখবেন। এর বাইরে তাদের নামকরা বিরিয়ানিগুলো তো থাকছেই।
যোগাযোগ :০১১৯৬২৬২০৪৩।
