জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হইয়াছে গত বত্সরের ২৯ ডিসেম্বর। জেএসসি ও জেডিসি মিলাইয়া প্রায় ১৭ লক্ষ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছেন। তন্মধ্যে ভালো ফলের জন্য প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করিবার কথা। সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ইহার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করিতেছেন। উদ্বেগের বিষয় হইল, ফল প্রকাশিত হওয়ার পর তিন মাস অতিক্রান্ত হইতে চলিয়াছে। কিন্তু অদ্যাবধি বৃত্তি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করাই সম্ভব হয় নাই। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উত্কণ্ঠা তৈরি হইয়াছে— যাহা প্রত্যাশিত ছিল না। কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্বই হইল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে সর্বতোভাবে মসৃণ ও উদ্বেগমুক্ত রাখা। বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যও মূলত তাহাই। আর জাতীয়ভিত্তিক এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্তটিও আকস্মিক নহে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই মাসের মধ্যেই বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হইয়াছে। সঙ্গত কারণেই জেএসসি ও জেডিসির বৃত্তি প্রক্রিয়াকরণে কেন এই দীর্ঘসূত্রতা— সেই প্রশ্ন উঠিতেই পারে।
গতকাল সোমবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইহার জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করা হইয়াছে। কী সেই জটিলতা? জানা যায়, বৃত্তি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ার কারণেই পুরো প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হইতেছে। আর ইহার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর একে অপরকে দায়ী করিয়াছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর পক্ষ হইতে বলা হইয়াছে যে তাহারা অনেক আগেই নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠাইলেও ইহার প্রতি যথাসময়ে যথোচিত নজর দেওয়া হয় নাই। এই প্রসঙ্গে তাহাদের যুক্তিও উপেক্ষা করিবার মতো নহে। মাউশির মতে, বৃত্তি প্রদান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। প্রতি বত্সরই দেওয়া হয়। ইহার জন্য একটি স্থায়ী নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখন অজ্ঞাত কারণে প্রতি বত্সরই নূতন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। আর ইহা করিতে গিয়া প্রতিবারই নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হইতেছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, মাদ্রাসার ইবতেদায়ী (প্রাথমিক) পর্যায়ে বৃত্তি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত হইয়াছিল ২০১০ সালে। কিন্তু নীতিমালা প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এ যাবত্ তাহা কার্যকর করা সম্ভব হয় নাই।
যাহাই হউক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ইহা নিশ্চিত করিয়াছেন যে ইতিমধ্যে নীতিমালা অনুমোদিত হইয়াছে। সেই নীতিমালার ভিত্তিতে অচিরেই জেএসসি ও জেডিসির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইবতেদায়ী পর্যায়ের ১৫ হাজার শিক্ষার্থীকেও প্রথমবারের মতো বৃত্তি প্রদান করা হইবে। কিছুটা বিলম্ব ঘটিলেও অর্ধ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের এই বৃহত্ ও মহত্ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সেই সাথে আশা করি যে অভিজ্ঞতার আলোকে সর্বপ্রকার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।
