টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুজনে ছিলেন দারুণ ছন্দে। তাছাড়া সামপ্রতিক পারফরম্যান্সেও সমানে সমানই ছিলেন দুজন। কিন্তু, মায়ামিতে সনি ওপেনের ফাইনালে নোভাক জোকোভিচের দুর্দান্ত গতির সাথে পাল্লা দিতে পারলেন না রাফায়েল নাদাল। ফলে, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকাটিকে ৬-৩, ৬-৩ গেমে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো সনি ওপেনের শিরোপা জিতলেন জোকোভিচ। অন্যদিকে, এনিয়ে চারবার ফাইনালে গিয়েও শূন্য হাতেই ফিরতে হলো নাদালকে।
২০১১ সালে নাদালের বিরুদ্ধে টানা ছয় ম্যাচের জয়ের পর গত দুই বছরে নাদালের বিরুদ্ধে বারবারই হারতে হয়েছে জোকোভিচকে। দুজনের সর্বশেষ ১৪ লড়াইয়ে ১০ বারই হতাশা নিয়ে কোর্ট ছাড়তে হয়েছে এই সার্বিয়ানকে। তবে অতীত ব্যর্থতার সেই রেকর্ড এ ম্যাচে পাত্তাই পেল না জোকোভিচের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে। আর নাদালের সঙ্গে দ্বৈরথের রেকর্ডটিকে ১৮-২২ এ উন্নীত করার পর স্বভাবতই র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর তারকাটি ছিলেন উচ্ছ্বসিত, ‘পুরো টুর্নামেন্টটাই আমার জন্য ছিল একবারে নিখুঁত। প্রতিটি ম্যাচেই আমি যেমনটা খেলতে চেয়েছি ঠিক তেমনটাই হয়েছে। তাছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে টুর্নামেন্টে আমার উন্নতির গ্রাফটা ছিল ধারাবাহিক। আর টুর্নামেন্টের নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা সেরা সময়েই দিতে পেরেছি আমি। অবশ্যই রাফার বিরুদ্ধে খেলাটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার বিরুদ্ধে যে কোন কোর্টে খেলাটাই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ।’
ফাইনালে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে জোকোভিচ আরো বলেন, ‘রাফা হচ্ছে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আপনি সামান্য কোন সুযোগও যদি দেন, সে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে। সে প্রতি মুহূর্তেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এবং অনেক ক্ষেত্রেই খেলাটা শেষ হয় তার জয়ের মাধ্যমে। তাই আমি কখনোই তাকে স্বস্তি পেতে দেইনি। প্রতিটি গেমেই আমার লক্ষ্য ছিল তাকে চাপে রাখা।’
সেই চেষ্টায় যে জোকোভিচ পুরোপুরিই সফল তার প্রমাণ মিললো টুর্নামেন্টের চারবারের ফাইনালিস্ট নাদালের কথায়ও, ‘আজকের ম্যাচে আমার হারের ব্যাখ্যাটা একেবারেই সহজ। সে আমার চেয়ে অনেক ভাল খেলেছে।’
এই জয়ের ফলে পিট সামপ্রাসকে টপকে সনি ওপেনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপার মালিক এখন জোকোভিচ। ছয়টি শিরোপা নিয়ে ‘জোকারের’ সামনে এখন কেবল আন্দ্রে আগাসি। আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে যাওয়া ক্লে কোর্ট মৌসুমে আত্মবিশ্বাসী শুরুর জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারলেন জোকোভিচ।
