গ্রীষ্মের ফল খাও বেশি করে পুষ্টি পাও

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ১৯:৪৫

চয়ন বিকাশ ভদ্র

এসেছে রসালো ফলের ঋতু গ্রীষ্ম। চারদিক এখন পাকা ফলের সৌরভে মাতোয়ারা। মিষ্টি ফলের রসে টইটম্বুর জ্যৈষ্ঠ। গাছে গাছে এখন ঝুলছে কাঁঠাল। গাঢ় সবুজ আমের শরীরে সিঁদুরের ছোপ। পেকে ওঠা লিচুগাছ ঘিরে দিনে পাখি আর রাতে বাদুড়ের কোলাহল। মনে পাকা জামের মধুর রসে মুখ রঙিন করার স্বপ্ন। জাম, জামরুল, লিচু, আনারস, করমচা, আতা, তরমুজ, বাঙ্গি, বেল, খেজুর, কাঁচা তাল, জাম্বুরা, কাউফল, গোলাপজাম, কামরাঙা, লটকনসহ হরেক ফলের স্বাদে রসনা তৃপ্তির মৌসুম। এ লেখায় গ্রীষ্মকালের কিছু ফলের পুষ্টিগুণ তোমাদের জন্য উল্লেখ করছি—

 

আম

আম খুবই সুস্বাদু একটি ফল। এতে প্রচুর ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ক্যালোরি আছে। আম কোলেস্টেরল বশে রাখে এবং হূদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। পাকা ফল লিভার বা যকৃতের জন্য উপকারী। রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা এবং কাঁচা উভয় প্রকার আমই মহৌষধ। আম থেকে চাটনি, আচার, আমসত্ত্ব, মোরব্বা, জেলি ও জুস তৈরি হয়।

 

জাম

টক মিষ্টি সুস্বাদু কালো জাম ফলটি বেশ জনপ্রিয়। জামে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, ইন্দোনেশিয়া এবং চীনে জামের ব্যবহার রয়েছে।

 

কাঁঠাল

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য কাঁঠাল খুবই উপকারী। কাঁঠালে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ক্যারোটিন আছে। কাঁচা কাঁঠাল তরকারি, পাকলে ফল হিসেবে এবং বীজ ময়দা ও তরকারি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাঁঠাল কোলন ক্যানসার ও অর্শের মোকাবিলা করতে পারে। 

 

লিচু

লিচু ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম ও কপারের উত্কৃষ্ট উত্স। প্রত্যেকটাই শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।

 

জামরুল

জামরুল হালকা মিষ্টি একটি রসালো ফল। এটি ক্যারোটিন ও  ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ একটি ফল। এছাড়াও এতে আমিষ, খনিজ লবণ, ভিটামিন সি এবং লৌহ রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় জামরুল ডায়াবেটিস রোগীর তৃষ্ণা নিবারণে উপকারী। 

 

আনারস

আনারস বেশ খাদ্যগুণসম্পন্ন। প্রতি কেজি আনারস থেকে ৫০০ ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। তাজা ফল ছাড়াও বাজারে আনারসের জ্যাম, জেলি ইত্যাদি পাওয়া যায়। আনারসে ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে।

 

আতা

আতার পুষ্টিগুণ অনেক। প্রতি ১০০ গ্রাম আতায় রয়েছে শতকরা ৭৩.৩ ভাগ পানি। তাই গরমে এটি খাওয়া বেশ স্বস্তিদায়ক। এছাড়া এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, লোহা, ফসফরাস প্রভৃতি খাদ্যগুণ।

 

তরমুজ

তরমুজ ভিটামিন এ জাতীয় ফল। টাইফয়েড রোগীরা আধাপাকা তরমুজের রস ২ চা চামচ প্রতিদিন খেলে উপকার পায়। তরমুজে পটাশিয়াম আছে, যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে তরমুজে। রাতকানা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রীয় ক্ষত, রক্তচাপ, কিডনিসহ নানা ধরনের অসুখ প্রতিরোধ করে। গরমের দিনে ঘামের সঙ্গে প্রচুর লবণ ও জল বেরিয়ে যায়। তরমুজে প্রায় ৯৬ ভাগই জল এবং প্রচুর খনিজ লবণ থাকায় দেহে লবণ ও জলের ঘাটতি পূরণ করে।

 

বাঙ্গি

বাঙ্গিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে চিনির পরিমাণ কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন।

 

বেল

বেল একটি পুষ্টিকর ফল। কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশয়ে বেশ উপকারী। পাকা বেলের শরবত সুস্বাদু। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়াম। বেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। আধাপাকা সেদ্ধ ফল আমাশয়ে অধিক কার্যকরী। বেলের শরবত হজমশক্তি বাড়ায় এবং তা বলবর্ধক। শিশুদের স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য বেল বেশ উপকারী। বেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

 

লটকন

লটকনে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় সহায়তা করে।

 

মধুমাসের ফল বাঙালিকে তাপদাহের যন্ত্রণায় একটু শীতলতার পরশ ও প্রশান্তি এনে দেয়। এগুলো পুষ্টিগুণেও অনন্য। তবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে পাকানো ও সংরক্ষিত ফল বাজারে আনে। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।