জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে কেউই মুক্ত নয়। মানুষের স্বাস্থ্য, আবাসস্থল, খাদ্য এবং সর্বোপরি নিরপত্তাকে বিঘ্নিত করবে। এজন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে এখনই নিতে হবে। এজন্য সময় খুবই কম। না হলে কঠিন আরো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে পৃথিবী নামের এই গ্রহের মানুষকে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের ইন্টার গভর্ণমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএন’র।
প্যানেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে পৃথিবীজুড়ে বহু মানুষের জীবন-জীবিকার উপর প্রভাব পড়বে। যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের উপকূলের লক্ষ-লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা যে হুমকির মুখে পড়বে সেটি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এখনও পর্যন্ত যতগুলো প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে তার মধ্যে আইপিসিসির এই প্রতিবেদনটি সবচেয়ে ব্যাপক বলে বর্ণনা করছেন বিজ্ঞানীরা।
তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীতে উষ্ণতা যেমন বাড়বে তেমনি হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। এই প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন উন্নত দেশগুলোতে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন অবশ্যই কমাতে হবে। সেটি হলে কি পরিণতি হবে তা উঠে এসেছে আইপিসিসি’র প্রতিবেদনে। তাপমাত্রা বেড়ে যদি চার ডিগ্রি বেড়ে যায় তাহলে এর সাথে খাপ খাওয়ানো যাবে না। এতে করে বাংলাদেশে বন্যা এবং সাইক্লোনের প্রবণতা বেড়ে যাবে।
আইপিসিসি জানিয়েছে, পরিবেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এতে সমুদ্রের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে পানি এবং ফসলের ওপর। মানব জাতি এটা মানিয়ে নিতে পারলেও তা খুব সামান্য সময়ের জন্য। বন্যা থেকে মুক্তি পেতে সমুদ্র তীরে বাধ নির্মান করতে হতে পারে। আর পানির কারনে কৃষকরা ফসল চাষে দুর্ভোগের শিকার হতে পারে। প্যানেলের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদন সমন্বিতভাবে করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির আগে জাপানের ইয়োকোহামায় গত এক সপ্তাহ ধরে বিজ্ঞানী এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। প্রতিবেদনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ,ফলাফল এবং সমাধানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিশাল বিশাল বরফ খন্ড গলে যাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইপিসিসি’র চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচৌরি বলেন, এই গ্রহের কেউই এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডাব্লিএমও) মহাসচিব মাইকেল জারাউদ বলেন, আগে মানুষ না বুঝেই বিশ্বের জলবায়ুর ক্ষতি করতো। কিন্তু সেই এখন সেই অজুহাত দেখানোর আর সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তন যে ক্ষতির কারণ হচ্ছে তা প্রমাণে সমপ্রতি ব্রিটেনে ঘটে যাওয়া বন্যার তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরা হয়।
