ছিলাম মোরা একত্র, ছড়িয়ে পড়েছি সর্বত্র। হূদয়ে হূদয়ে পড়েছে টান, তাই গাই মিলিত হবার গান। কত কথা, কত গান। ক্যান্টিনের গরম চায়ের আড্ডা, ক্লাসরুমের বারান্দা আর কমনরুমের বেঞ্চিতে কত যে স্মৃতি, কত যে কথা সব এসে ধরা দিল এক সকালে। চোখের দেখা আর মনের কথা এক হয়ে গেল সে সকালে। কিছু প্রাণের কাছে সকালটা তাই একটু আলাদাই। সারাবছর যারা মানুষের দ্বারে খবর পৌঁছে দেন, সেই মানুষগুলোরই দেখা নেই প্রায় দুই বছর। পড়াশোনা শেষে এটাই তাদের আনুষ্ঠানিক দেখা। তাই আড্ডাটাও জমেছে বেশ। বহুদিন পর দুচোখ মেলে একে অন্যের দিকে চাওয়ার সময়টুকু বোধহয় আজই। বন্ধুর কাছে ভালো খবরই প্রত্যাশিত। তাই প্রশ্নেই সেই সুর, বল, ভালো আছো তো? আর খুনসুটি-আড্ডা-চা বিরতি কোন সময়ই আজ ফেলনা নয়। বন্ধুর সাথে বহুদিন পর দেখা বলে কথা।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের পুনর্মিলনীতে স্মৃতিগুলো ফিরে এল এভাবেই। পুরনো দিনকে টেনে এনে পুনর্মিলনের দিনটি কেটেছে মুখরতায়। বিভাগের প্রথম শিক্ষার্থী আনিস রহমান, আর সবার চেয়ে বিভাগের প্রতি ভালোবাসাটাও একটু ভিন্ন। ‘দেখা হল বহুদিন পর। বন্ধুদের সাথে সময়টা যেন আবার নতুন করে ধরা দিল। নতুন শিক্ষার্থীদের সাথেও দেখা হল, যা আসলেই আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে।’
সাবিনা ইয়াসমিন বললেন একটু ঘুরিয়ে। তার কাছে দেশ আর দশ একই। তাই বন্ধুদের কাজে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান দেশের মানুষকে। নিজের কাজটুকু তাই তার কাছে পবিত্র দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের সাথে এদিন আনন্দে মেতেছেন শিক্ষকরাও। বিভাগের প্রধান সৈয়দ মিজানুর রহমানের কথায়ও সেই আঁচ পাওয়া গেল, ‘শিক্ষকদের সাথে আজ আর আমাদের কোন প্রাচীর নেই। এদিনটি আসলেই উপভোগ করবার। দিনশেষে আমরা সবাই মিলেই একজন। তাই আচরণটাও তেমনই হওয়া চাই।’ বিভাগের তরফ থেকে পুরনো শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ দেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন গোলাম রহমান ও অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান।
দিনব্যাপী পুনর্মিলনী আয়োজনে কি ছিল না? নাচ, গান, আবৃত্তি, স্মৃতি রোমন্থন কিংবা কমেডির মতে উপস্থাপনা। তবে সবকিছুতেই যেন মিলনের পরশ আর আবহ। হূদয় দোলা দেয়া সময়টুকুতে যেন আমরা সবাই রাজা। সব কণ্ঠে যেন একই সুর, একই তাল। বিদায়বেলায় বিষণ্ন মনে আবার ফেরার প্রত্যয় আবার দেখা হবে এখনই শেষ দেখা নয়।
