চকরিয়ায় ঝুঁকি নিয়েই লবণ উত্পাদনে নেমেছেন চাষিরা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৫২
ব্যবসায়ীদের লবণ আমদানির কারণে এখানকার চাষিরা এখনো গত বছর উত্পাদিত লবণ বিক্রি করতে পারেননি। বিপুল পরিমাণ লবণ পড়ে রয়েছে মাঠে। তবে আর্থিক ঝুঁকি সত্ত্বেও বরাবরের মতো এ বছরও ফের লবণ উত্পাদনে মাঠে নেমেছেন চাষিরা। বছরের শুরু থেকেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে লবণ চাষ। বিসিকের তথ্য মতে, গতবছর জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে ৬৪ হাজার ১৫১ একর জমিতে লবণ চাষ করেন চাষিরা। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকার পরও বিদেশ থেকে অব্যাহত লবণ আমদানির কারণে এ বছর চাষের পরিমাণ একটু কমেছে। তবে এ বছর ৬০ হাজার একরের বেশি জমিতে লবণ চাষ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ লবণ শিল্প কর্পোরেশন কক্সবাজারের গবেষণা কর্মকর্তা এটিএম ওয়ালী উল্লাহ। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ইতিমধ্যে ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ শুরু হয়েছে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন। চাষ শুরু হওয়ার প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী) প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। গবেষণা কর্মকর্তা ওয়ালী উল্লাহ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত লবণ উত্পাদন হবে। বাড়বে চাষের পরিমাণও। কক্সবাজার বিসিক সূত্র জানায়, গতবছর জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে ৬৪ হাজার ১৫১ একর জমিতে পলিথিন পদ্ধতি ও সনাতন পদ্ধতিতে লবণ চাষ করা হয়। গতবছর উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে উত্পাদন হয় ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯শ মেট্রিক টন লবণ। বিসিক সূত্র জানায়, উত্পাদিত ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯শ মেট্রিক টনের মধ্যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯শত মেট্রিক টন লবণ। এছাড়া আমদানি ও পরবর্তী উত্পাদন মিলিয়ে গতবছর দেশে উদ্বৃত্ত লবণের পরিমাণ ৩ লাখ মেট্রিক টন বলে বিসিকের হিসেব বিবরণীতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ লবণ চাষি সমিতির সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতবছর উত্পাদিত লবণে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ মজুদ থাকার পরও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চ মহলে লবণ সংকটের ভুল তথ্য দিয়ে ফের ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ বিদেশ থেকে আমদানি করে। লবণ আমদানির এ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের। প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের চক্রান্তের কারণে প্রতিবছর বিদেশি লবণে বাজার সয়লাব হওয়ায় এখানকার ক্ষুদ্র লবণ চাষিরা চাহিদার বিপরীতে বিপুল পরিমাণ লবণ উত্পাদন করেও বিক্রি করতে পারেন না। বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলকে বার বার অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করা হচ্ছে না। চকরিয়া উপজেলার দরবেশকাটা এলাকার চাষি জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ হোসেন, ইলিশিয়া এলাকার চাষি আবদুর রহমান, আজিজুল হক বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বর্তমানে তাঁরা প্রতিমণ (পলিথিন পদ্ধতিতে উত্পাদিত) সাদা লবণ ১৩০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তাদের মণপ্রতি উত্পাদন খরচ হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির (মাঠ ওয়াশ) কালো লবণের মূল্য পাচ্ছেন প্রতি মণ ১১৫-১২০ টাকা। এতে তাদের খরচ হচ্ছে মণপ্রতি ১৩০-১৪০ টাকা করে। চাষিরা আরো বলেন, গতবছরের উত্পাদিত লবণ এখনো মজুদ থেকে যাওয়ায় এবং এ বছরের উত্পাদিত লবণ বাজারে আসার কারণে তাদের লবণ বিক্রি একেবারে কমে গেছে। ফলে উত্পাদন খরচ তুলতেই তাদের রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে।