উজানযাত্রা

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ১৯:৫০

চার যুগ পর দেশে ফিরে ঢাকা এয়ারপোর্টের এক্সিট লাউঞ্জে লাগেজসহ গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মাসুদ কফিনে শায়িত নিজের হিমশীতল লাশটি দেখে এবং কবরবাসী স্বজনদের স্মরণ করে। মরহুম বাবা-মায়ের একান্ত ইচ্ছে ছিল, মৃত্যুর আগেও মা কথাটি বলে গেছে, বড়ছেলে মাসুদ বিদেশি বউ ও সন্তানদের নিয়ে দেশে যদি নাই ফেরে, অন্তত মরার পর যেন তার লাশটি দেশে আসে এবং বাবা-মায়ের পাশে কবর পায়। মায়ের শেষ ইচ্ছেটি স্মরণ করে ওয়াশিংটনের জর্জ ইউনিভার্সিটির রিটায়ার্ড প্রফেসর বড়ভাইকে দেশে আনার সব আয়োজন করেছে ছোটভাই মুকুল। ভেবেছে হয়তো, আমেরিকা থেকে লাশ আনার হাঙ্গামার চেয়ে, জীবিত অবস্থায় দেশে এনে মরতে দিলে কবরে শোয়ানোর কাজটা সহজ হবে। কিন্তু বাহাত্তুরে প্রবীণ মাসুদ, আমেরিকান-বাংলাদেশি প্রফেসর মাসুদুল হক পাটোয়ারি ওরফে ড. প্যাটারি যে স্বজনদের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে নয়, বরং ফিরে এল দেশেও নিজের মতো করে বাঁচার ও প্রেমের আনন্দ উপভোগ করতে; এই সত্যটা প্রকাশে সে লাগেজে চাটি মেরে কফিন ও কবরের কল্পনা তাড়ায় এবং চারপাশে কৌতূহলী দৃষ্টি ঘুরিয়ে চেনামুখ খোঁজে।

মুকুলকে ফ্লাইটের অ্যারাইভাল শিডিউল ই-মেইলে জানানো হয়েছে। ফোনেও কথা হয়েছে দীর্ঘক্ষণ। মুকুল বলেছে, গাড়ি নিয়ে নিজেই সে এয়ারপোর্টে থাকবে। মাসুদের ফোনে আমেরিকান সিমকার্ড। তবে এয়ারপোর্টে নিজের উপস্থিতির খবরটা যে কোনো দেশি ফোনের সাহায্য নিয়ে ভাইকে জানানো যায়। কিন্তু প্রায় অর্ধ শতাব্দীর প্রবাসজীবনে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার তেমন গরজ বোধ করেনি, যে কারণে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও ভাইকে কাছে পাওয়ার ছটফটানি নেই তার। মুকুল যদি তাকে রিসিভ করতে না আসে, একটা রেন্টকার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ধর্মপুরে যাওয়ার দীর্ঘপথ একাই পাড়ি দিতে পারবে সে। মস্ত অ্যাডভাঞ্চার হবে সেটা। একমাত্র ছোট ভাইটি ছাড়া ঢাকায় তার অপেক্ষায় কেউ নেই, করারও কিছু নেই। প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত এক্সিট লাউঞ্জের বাউন্ডারি-রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত বহুসংখ্যক অভ্যর্থনাকারী, তারা কেউই মাসুদকে দেখে চোখ নাচায় না, হাত নাড়ে না। ভিড়ের উপেক্ষা যেন চিত্কার করে বলছে, ষোল কোটি মানুষের এদেশে একজন আমেরিকান-বাঙালি জীবিত কিংবা মৃত এলে কী, আর গেলেই বা কী!

ফুল হাতে কেউ তাকে স্বাগত-শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে না আসায়, এমনকি নিজের অন্তরেও দেশে ফেরার আনন্দ-অনুভূতির তেমন সাড়া না পেয়েই সম্ভবত, মাসুদের প্রথম স্বাধীন স্বদেশে ফেরা এবং জাতির জনক শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ঘটনা মনে পড়ে। জন্মভূমিতে বসে আত্মজীবনীর বাংলাদেশ পর্বটা রচনা করতে চায় মাসুদ, তাতে এ দুটি ঘটনার বিশদ বয়ান তুলে ধরবে। আপাতত সেই ঘটনা উত্থিত আনন্দ-আবেগের স্মৃতিটা মনে পড়ে। মাসুদের জীবনের প্রথম বিদেশযাত্রা ছিল প্রতিবেশী ইন্ডিয়ায়, ১৯৭১-এ। মুক্তিযুদ্ধের সময় সে বয়সে তরুণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ছাত্র। পাকিস্তান সামরিক শাসকদের লেলিয়ে দেওয়া সেনাবাহিনী সারাদেশে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করলে আশি লক্ষ মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। মাসুদও তাদের একজন হয়ে দীর্ঘ বিপদশঙ্কুল পথ পায়ে হেঁটে ও নৌকায় ভেসে অরক্ষিত বর্ডার পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিল। শরণার্থীদের মধ্যে যুবশিবির থেকে ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল যারা, তাদের সিংহভাগই ছিল অল্প লেখাপড়া জানা কৃষক-শ্রমিক শ্রেণির, একেবারে নিরক্ষর ও সদ্য গোঁফ-গজানো কিশোরও ছিল অনেক, কিন্তু মাসুদের মতো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারে জড়িত নেতা পর্যায়ের লোকজন, রণাঙ্গণে অস্ত্র হাতে ফিজিক্যালি লড়েছে যতটা, ভারতের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মানসিক লড়াই চালিয়েছে বেশি। মাসুদও ছিল এদেরই একজন। পরিচিত এক নেতার সুপারিশে যুবশিবিরে ইনস্ট্রাকটরের দায়িত্ব পালন করেছে মাসতিনেক, মাসিক ভাতাও পেত কিছু। কিন্তু যুবশিবিরের ধরাবাঁধা জীবন, রোগ-জীবাণু সংক্রমণের পরিবেশ বেশিদিন ভালো লাগেনি। আবার অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনীর নাগালের মধ্যে যাওয়ার সাহস কিংবা ইচ্ছে—কোনোটাই হয়নি তার। পকেটে বেশকিছু টাকা ছিল। মাসুদ জয়বাংলার পরিচয়ে বিনাটিকেটে ট্রেন ভ্রমণ করে ইন্ডিয়ার বেশ কয়েকটি স্টেট ঘুরে বেরিয়ে সময় কাটিয়েছে। বয়স, পরিবেশ এবং স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষার কারণেও হতে পারে, ঐ সময়ে আনন্দ-উপভোগের তৃষ্ণাটাও ছিল প্রবল। বিনাটিকেটে ইন্ডিয়া দেখার মজা ছাড়াও বোম্বের নায়িকাদের আকর্ষণে হিন্দি সিনেমাও দেখেছে প্রচুর। এক দুঃসাহসী বন্ধু তাকে নিষিদ্ধপল্লিতেও নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে দেখা হওয়া মেয়েটির মানসিক ঔদার্য স্মৃতিতে অম্লান এখনো। একাত্তরে প্রবাসজীবনের ভোগ-দুর্ভোগ আনন্দ-বেদনার সব স্মৃতি ছাপিয়ে স্বাধীনতার পতাকার মতো পতপত করে জেগে ওঠে ডিসেম্বরের শেষদিকে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে স্বাধীন দেশে ফেরার আনন্দ। ভারতযাত্রার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বদেশ-প্রত্যাবর্তনও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সেইসঙ্গে ছিল বাড়িতে ফিরে স্বজনহারানোর খবর শোনার আশঙ্কা। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছার আগেই দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছিল মাসুদ। বাবা-মাসহ সবাই বেঁচে আছে। শেষপর্যন্ত তাদের এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী আসেনি, একজন মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া কেউ শহিদও হয়নি। মাসুদের ছোটভাই মুকুল এ সময় কিশোর, শহরে বোনের বাসায় থেকে জেলা হাইস্কুলে পড়ত। সেও গ্রামের বাড়িতে ছিল, ছুটে এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ-আবেগে কেঁদে ফেলেছিল। চোখের পানি ফেলে বলেছিল, ‘ভাই, আমরা খবর পেয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে তুই শহিদ হয়েছিস।’ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েও শহিদ না হওয়ার সৌভাগ্যও মাসুদের ঘরে ফেরার আনন্দ বাড়িয়েছিল অবশ্যই।

মাসুদ স্বাধীনতা আন্দোলনের কাণ্ডারি শেখ মুজিবের মুক্তিলাভ এবং স্বাধীন দেশে নেতার প্রত্যাবর্তন সদ্য স্বাধীন দেশের সবচেয়ে বড় আনন্দদায়ক খবর হয়ে উঠেছিল মাসুদের কাছেও। পশ্চিম পাকিস্তানের ফাঁসির সেল থেকে মুক্তি পেয়ে নেতা লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি ঢাকা এয়ারপোর্টে পৌঁছাবেন এবং রেসকোর্সে ভাষণও দেবেন। ৭ই মার্চের ভাষণ শোনার জন্য রেসকোর্সে ছিল মাসুদ, নেতার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন দিবসেও শরিক হওয়ার জন্য বাবা-মায়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করে ঢাকা রওয়ানা হয়েছিল সে। তখনো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ জুড়ে হারানোর বিষণ্নতা, ভাঙা পথঘাট, বিশৃঙ্খলা ও অস্বাভিকতা সর্বত্র। ধর্মপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে মাসুদের সময় লেগেছিল দু দিন। ১০ জানুয়ারি মিছিলের সঙ্গে এয়ারপোর্টে যেতে চেয়েছিল মাসুদ, কিন্তু এয়ারপোর্টে গিয়েও ভিড়ে নেতাকে কাছে থেকে দেখার এবং রেসকোর্সে তাঁর ভাষণ শোনার অনিশ্চয়তাবোধ থেকে, জনসভায় আগেভাগে উপস্থিত হয়েছিল মাসুদ। সেই প্রথম বেশ কাছে থেকে নেতাকে দেখেছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজের দেশ ও জনগণকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে যখন কান্নাভারাক্রান্ত কণ্ঠে কথা বলেন এবং চোখ মোছেন, তখন অনেক মানুষের মতো মাসুদেরও বেশ কান্না পেয়েছিল। নেতা আবেগময় কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি’ কবিতার চরণ আবৃত্তি করে বলেছিলেন, কবিগুরু তোমার কথা মিথ্যে হয়েছে, বাঙালি মানুষ হয়েছে, বাঙালি স্বাধীন হয়েছে।

কোথাও মোবাইল ফোন বেজে ওঠায় প্রফেসর মাসুদের বাহাত্তুরে ভিড়ের সঙ্গে একাত্মতার আনন্দস্মৃতি ছিন্ন হয়। অনেকক্ষণ একা দাঁড়িয়ে আছে সে। পকেট থেকে নিজের ফোন বের করে দেখে, তার ফোনে মুকুল বা আর কেউ সাড়া জাগায়নি। এয়ারপোর্টে ফ্রি ওয়াইফাই ইন্টারনেটও কাজ করছে না বোধহয়। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর, মুকুলের বাসার বদলে ধর্মপুরে ফিরে যাওয়ার জন্য ভাড়ার-টেক্সি খোঁজা শুরু করবে মাসুদ। কেননা স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রায় অর্ধ শতাব্দী কালের মধ্যে বাঙালি কতটা স্বাধীন আর কেমন মানুষ হয়ে উঠছে, তা সরেজমিনে দেখে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটি লেখার কাজ শুরু করবে গাঁয়ের বাড়িতে পৌঁছেই। আমেরিকার অ্যাকাডেমিক জগতে জেনারেল ফিজিক্সের প্রফেসর মাসুদুল হক পাটোয়ারি যে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির বাইরেও একজন বেস্টসেলার গ্রন্থকার, এ খবরটি এ দেশের ইংরেজি সাহিত্যের পাঠকসমাজও জানে না বোধহয়। তার ইংরেজিতে লেখা—জনৈক এশিয়ান ইমিগ্রান্টের দৃষ্টিতে আমেরিকান স্বপ্ন—গ্রন্থটি পাঁচ সপ্তাহ বেস্টসেলারের তালিকায় ছিল। অবসরগ্রহণের পর বাংলাদেশ নিয়ে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনার পরিকল্পনা প্রকাশনা জগতের নামী এডিটর বন্ধুকে জানালে উত্সাহ দিয়েছে সে। লেখার সময় ইউরোপ-আমেরিকান সংস্কৃতি ও ইংরেজিভাষী পাঠকদের কথা স্মরণে রাখতে বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছে। এই যাত্রায় জন্মভূমিতে বসেও পরিকল্পিত আত্মজীবনী লেখার কাজ যদি শেষ না-ই হয়, প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ এবং গবেষণার কাজটি করবে অন্তত। নিজের কাজে বিঘ্ন ঘটলে, দেশের মাটিতে তাকে পুঁতে ফেলার আগ্রহী স্বজন-ভিড়ের কান্না অগ্রাহ্য করে ওয়াশিংটনেই ফিরে যাবে শিগগির।

মগজের ক্যালকুলেটর চালু করে মাসুদ হিসাব করে দেখে, তার প্রবাসজীবনের বয়স আসলে বিয়াল্লিশ বছর দুই মাস চার দিন। বলার সুবিধার জন্য সে চার যুগ কিংবা অর্ধ শতাব্দীকাল দেশছাড়া বলে—এ দেশের কবিরা যেমন বাংলার মাঠেপ্রান্তরে কিছুটা সময় হেঁটেও হাজার বছরের পথ চলার আনন্দ পায়। ভারতের শরণার্থী জীবনের স্বাদ নিয়ে স্বপ্নের স্বাধীন দেশে কাটিয়েছে মোট সাত বছর নয় মাস। সেই সময়েও দেখেছে মাসুদ দশটার ট্রেন কখনোই দশটায় ছাড়েনি, কোনো পরীক্ষাই নির্দিষ্ট সময়ে হয়নি। ইউনিভার্সিটিতে সেশনজট, রাস্তায় যানজট এবং সামাজিক জীবনের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকর অবস্থাই ছিল দৈনন্দিনতার অভিজ্ঞতা। সেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও বাঙালির মানুষ হওয়ার অভিযাত্রায় সময়জ্ঞানের উন্নতি যে খুব একটা ঘটেনি, সেটার প্রমাণ দিতে আত্মজীবনীতে ঠিক সময়ে ছোটভাইয়ের এয়ারপোর্টে না আসার ঘটনাটিও অবশ্যই উল্লেখ করবে মাসুদ।

অপেক্ষায় অসহিষ্ণুতার বোধ জাগতে না জাগতেই এক্সিট ওয়েতে একটা ল্যান্ডক্রুজারকে থামতে দেখে মাসুদ, সেই গাড়ি থেকে নেমে মুকুল ছুটে এসে বড়ভাইকে আলিঙ্গনে বাঁধে। একাত্তরে দেশে ফেরার পর যে কিশোরটি জড়িয়ে ধরলে যেমত আনন্দ-আবেগ জাগিয়েছিল, অতটা না হলেও, ভাইকে বুকে জড়িয়েই যেন এই প্রথম দেশে ফেরার সাফল্য ও শিরশিরে আনন্দ-অনুভূতি ফিরে পায় ড. মাসুদ। অপেক্ষার উদ্বেগ-একাকীত্ব কেটে যায় মুহূর্তেই।

‘স্যরি ভাই! ইমিগ্রেশন-কাস্টমসের ঝামেলা চুকিয়ে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছো কি?’

মাসুদ মগজের ক্যালকুলেটরে হিসাব না করেই জবাব দেয়, ‘না, দশ মিনিটের বেশি নয়।’

‘জ্যামে কিছুটা দেরি হয়েছে। আজ একটা ভালো দিনে দেশে ফিরেছো তুমি। আগে গাড়িতে ওঠো।’

মাসুদের ড্রাইভারও গাড়ি থেকে নেমেছে, সে বিনয়-বিগলিত সালাম দিয়ে বসের বড়ভাইকে স্বাগত জানায়। ট্রলি থেকে লাগেজ টেনে ঝটপট গাড়িতে তোলে। মুকুলও ভাইকে হাত লাগাতে না দিয়ে সাহায্য করে ড্রাইভারকে। সরকারি চাকরিতে থাকার সময় ইঞ্জিনিয়ার ভাইটিকে প্রফেসর মাসুদ ওয়াশিংটনে নিজ বাড়িতে তিনবার দেখেছে, ইন্টারনেটে ভিডিও কলে প্রায়ই দেখা ও কথা হয়, কিন্তু এবারের দেখাটা যেন অন্যরকম। সরকারি চাকরিতে রিটায়ার করে হজও করে এসেছে মুকুল, থুতনিতে পাকা দাড়ি এবং অগ্রজের তুলনায় মোটাসোটা ও মাথায় বড় টাক থাকায় অনেকে তাকেই বড় ভাবতে পারে। অথচ বয়সে মুকুল তার চেয়ে তিন বছর এক মাস উনিশ দিনের ছোট।

গাড়িতে ভাইয়ের পাশে বসে বসে মুকুল ড্রাইভারকে এসি বাড়াতে বলে।

‘না থাক, এখনো তো তেমন গরম পড়েনি বোধ হচ্ছে।’

‘দেশের আবহাওয়াও বড় উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে ভাই। ঠাণ্ডা, গরম, ঝড়, বৃষ্টি কোনোকিছুই যেন আর আগের নিয়ম মানতে চায় না।’

পুরো উপন্যাস ইত্তেফাক ঈদসংখ্যায়