আমার বড় ভাই, আমার বন্ধু

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ২০:৩৬

আমার চোখে দেখা সবচেয়ে স্মার্ট, সুদর্শন শিল্পী। তিনি সিনেমাতেও অভিনয় করে সফল ছিলেন। এটা হয়তো অনেকেই জানেন না। আমি তো এমনিতেই খুব দুষ্টুমি করি। তো খালিদ ভাইয়ের সাথে প্রায় সময়ই নানারকম রসিকতা করতাম। তাঁর রসিকতার ভেতরেও একধরনের পরিমিতিবোধ ছিল। আমি প্রায় বলতাম, আপনি সিনেমায় নায়ক থাকলে খুব ভালো করতেন। আমারও নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতো। খালিদ ভাই তাঁর চিরচেনা মৃদু মিষ্টি হাসি দিতেন।

এমনিতে পারিবারিকভাবে খালিদ ভাই-ভাবি দু’জনই আমাকে পছন্দ করতেন। একসাথে কত গান করেছি রেকর্ডিংয়ে, স্টেজে। কোনটা রেখে কোনটা বলবো। বিটিভির একাধিক অনুষ্ঠান আমার তাঁর সাথে করা। আমি কোনো গান নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে কোনোদিন বলতে শুনিনি, ‘আচ্ছা, আমি তোমাকে পরে বলছি।’ অর্থাত্ একেবারে আর্কাইভ ছিলেন। নজরুল চর্চার ভবিষ্যত্ তরুণদের ভেতরে কীভাবে আরো ছড়ানো যায় তা নিয়ে খুব ভাবতেন। প্রায় সময়ই আমাদের রেকর্ডিং শেষে এসব নিয়ে কথা হতো। আরেকটি বিষয়ের কথা খুব করে বলতে চাই, তা হলো কোথাও কোনো গান শুনে বা কারো পারফর্মেন্স ভালো লাগলে খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করতেন। এই গুণগুলো অনেকের ভেতরেই দেখি না বলেই আমি বিষয়টি উল্লেখ করলাম। আমার কাছেই শুধু নয়, খালিদ ভাইকে কখনো কেউ বুড়ো বলেনি। এত পরিপাটি এত সুদর্শন ছিলেন তাতে বয়সের হিসেবটা সবাই ভুলে যেতেন। খালিদ হোসেন আর ফিরবেন না। কিন্তু আমাদের এই সঙ্গীতাঙ্গনকে যেভাবে সমৃদ্ধ করে গেছেন তার তুলনা চলে না। আমি আমার বড় ভাই। আমার একজন ভালো বন্ধুকে হারালাম। আবু বকর সিদ্দিকীর লেখা দারুণ কিছু গান রয়েছে খালিদ ভাইয়ের গাওয়া। আমার এমন কোনোদিন নেই যেদিন তাঁর ওই গানগুলো শুনি না। কেউ আর বলবে না, ফাতেমা , ওই গানটা ধরো তো। বিটিভিতে রেকর্ডিং হবে হয়তো অন্য কোনো গান। কিন্তু তাঁর কী খেয়াল। পছন্দের গানটি খালি গলায় শুনতে চাইতেন। খালিদ ভাই উচ্চারণের ক্ষেত্রে খুবই যত্নশীল ছিলেন। গানের শব্দচয়ন ও সঠিক উচ্চারণ কারো ভুল হলো ভ্রু কুচকে যেত তাঁর। বিরক্ত হতেন। এদেশের প্রত্যেক শ্রোতা খালিদ ভাইয়ের অন্য গানগুলোর পাশাপাশি অসাধারণ হামদ নাত্ মিস করবেন। কী অদ্ভুত সুন্দর গাইতেন তিনি!

লেখক:দেশের বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী