রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিপূরণ মিলেছে ২২ কোটি টাকা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১১
সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় শুধু প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই অনুদান দেয়া হয়েছে সাড়ে ২২ কোটি টাকা। আহত-নিহতদের পরিবারকে আরো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি-না তা নির্ধারণে আজ বৃস্পতিবার আবার বৈঠক বসছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখিত অনুদানের বাইরে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় বিজিএমই খরচ করেছে ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বেতন, ক্ষতিপূরণসহ আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবদুস সোবহান সিকদার ইত্তেফাককে বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেই অনুদান হিসেবে ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন দফতর ও দাতা সংস্থা উদ্ধার কাজে খরচ করেছে ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, আরো কিছু অনুদান লাগবে কি-না তা নির্ধারণে বৃহস্পতিবার (আজ) আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সরকার এ ব্যাপারে প্রথম থেকেই আন্তরিক। জানা গেছে, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় গুরুতর আহত ৩৬ জনকে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। আর ৭৯৮ জন নিহতের পরিবারের এক হাজার ৯৯ সদস্যকে ১২ কোটি সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া ১৬৪ জন নিহতের ২২৮ জন আত্মীয়কে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক এমাজউদ্দীন চৌধুরী কায়কোবাদকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া ও চিকিত্সা বাবদ খরচ হয়েছে এক কোটি ৬ লাখ টাকা। যদিও তাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। পরে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ১২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে সরকার। রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় আহতদের চিকিত্সার জন্য ২২টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিল হিসেবে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। আর ডিএনএ প্রোফাইলিং করতে সরকার দিয়েছে অর্ধ কোটি টাকা। এছাড়া উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দেয়া সেনাবাহিনীকে উদ্ধার কাজের খরচ হিসেবে দেয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৩৬ হাজর টাকা। ঢাকা জেলা প্রশাসন উদ্ধার কাজে খরচ করেছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস পেয়েছে ২৫ লাখ টাকা। আর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার পেয়েছেন ২৭ লাখ টাকা। তাজরীনের চেয়ারম্যান ও এমডির জামিন আবেদন ফেরত তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেন ও চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তারের জামিন আবেদন ফেরত দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিশন মামলাও উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছে আদালত। দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভুঁইয়া ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. খোরশেদুল আলম শুনানি করেন। গত ২০ মার্চ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা আক্তারের জামিন বাতিল করে ১৫ দিনের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন তিনি। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১২ জন নিহত এবং দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হন।