ঘোর দুশ্চিন্তায় কারিগরি বোর্ডের ১ লাখ পরীক্ষার্থী

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৫
আজ শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এসব পরীক্ষার্থীর ৫টি বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতির আলোকে পরীক্ষা দিতে হবে। অথচ এসব বিষয়ে সৃজনশীলের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীরা পায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে ফেল না করে সে লক্ষ্যে তাদের সীমিত আকারে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। প্রশিক্ষণ প্রয়োজন ১২ দিনের। অথচ কারিগরি বোর্ডের প্রশিক্ষণ পেয়েছে ৩ দিনের। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বলছেন, ফেল করার হাত থেকে বেঁচে যাবে শিক্ষার্থীরা। তবে ভালো ফল নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। শংকার কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদান, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তবুও তারা পড়িয়েছেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন। শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা না নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে। যে কারণে তারা ভাল ফল করতে পারবে না। এরই প্রেক্ষাপটে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। অধ্যাপক আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেছেন, এর আগে শিক্ষাসচিবকে কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয় বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু শিক্ষকদের কারিগরির শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রশিক্ষণ দেয়া বোর্ডের কাজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে সে কারণে বোর্ডের অর্থায়নে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ পেলেও কারিগরি শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল হতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এসএসসি ভোকেশনাল, এইচএসসি ভোকেশনাল এবং এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় (বিএম) অন্যান্য বোর্ডের ন্যায় সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়। তথ্যানুযায়ী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ৩ হাজার ৮৮০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে এসএসসি ভোকেশনালে ২ হাজার ১৯৭টি, এইচএসসি ভোকেশনালে ৬৪টি এবং এইচএসসি (বিএম) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১ হাজার ৬১৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছে ২৫ হাজার। তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রকল্প এসইএসডিপির মাধ্যমে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পটি মূলত মাউশির। সাধারণও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড একই। কিন্তু কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পৃথক অধিদপ্তর রয়েছে। এ কারণে মাউশি’র এই প্রকল্পে কারিগরি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতা ছিল। মন্ত্রণালয় আন্তরিক হলে এতদিনে কারিগরির সব শিক্ষককের প্রশিক্ষণ শেষ হতো। এর আগে সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ না দিয়েই ২০১৩ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ শিক্ষায় নবম শ্রেণীর গণিত বিষয়ে চালু হয় সৃজনশীল পদ্ধতি। ফলে প্রশিক্ষণ না পাওয়া ‘দুর্বল’ শিক্ষকরা অনুমান করে শ্রেণীকক্ষে সৃজনশীল পদ্ধতিতে গণিত পড়িয়েছেন, নবম শ্রেণীর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করেছেন। প্রশিক্ষণ না নিয়ে এভাবে শিক্ষাদান ও প্রশ্নপ্রণয়ন করার ফলে ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া এইসব শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয় হতে পারে-এমন আশংকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। উচ্চ মাধ্যমিকে ২০১২ সালে শুধু বাংলা ১ম পত্রের সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৩ সালে বাংলা ১ম পত্রসহ মোট ৭টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর বাংলা ১ম পত্র, রসায়ন, পৌরনীতি, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনা, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ এবং কম্পিউটার শিক্ষা ১ম ও ২য় পত্রে মোট ২৫ টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আজ শুরু হওয়া এইচএসসি ভোকেশনাল ও এইচএসসি-বিএমেও থাকছে সৃজনশীল পদ্ধতি। এর মধ্যে এইচএসসি-বিএমে বাংলা-১, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্সে বাংলা-১ এবং এইচএসসি ভোকেশনালে বাংলা, পদার্থ ও রসায়নের ৫টি পত্রে থাকছে সৃজনশীল পদ্ধতি। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বড় একটি অংশ প্রশিক্ষণ পেলেও কারিগরির শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ পাননি। আওয়ামী লীগের গত শাসনামলে ২০০৯ সাল থেকে মাধ্যমিক স্তরে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। গত বছর বছরের জানুয়ারি থেকে গণিতেও এ পদ্ধতি কার্যকর করা হয়। চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অন্যান্য বিষয়ের মতো গণিতের পরীক্ষাও হয় সৃজনশীল পদ্ধতিতে। এ ছাড়া ২০১৫ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় গণিত, উচ্চতর গণিত এবং ২০১৭ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় উচ্চতর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা এ নিয়মে হবে।