অবিক্রীত লবণ নিয়ে বিপাকে চাষি

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ২১:২৬

চলতি মৌসুমে লবণ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। মৌসুম শেষ না হতেই উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। তবে উত্পাদিত লবণ বিক্রি করতে পারছে না চাষিরা। এখন লবণের দামও কমে অর্ধেকে নেমে গিয়েছে। মূলত লবণ প্রক্রিয়াকরণকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো লবণ না কেনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই ন্যায্য দাম পেতে সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছেন চাষিরা। ‘লবণ বোর্ড’ গঠনের দাবি করেছেন তারা।

কক্সবাজারের চকরিয়ার চাষি আনিসুর রহমান ২০ কানি (এক কানিতে ৩৯ শতাংশ) জমিতে লবণ চাষ করেছেন। বিক্রি না হওয়ায় চার হাজার মণ লবণ মজুদ করেছেন তিনি। মাঠেই গর্ত করে রেখে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিন মাস আগে মাঠ থেকে যে লবণ প্রতিমণ বিক্রি হতো ২৮০ টাকা তা এখন অর্ধেকে নেমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, চকরিয়া উপজেলার ৬০-৬৫ শতাংশ এলাকায় লবণ চাষ হয়। এসব অঞ্চল থেকে এসিআই সল্ট লিমিটেড, মোল্ল­া সল্ট, মধুমতিসহ বড়  কোম্পানিগুলো লবণ কেনা বন্ধ রেখেছে। যার ফলে হাজার-হাজার মণ লবণ অবিক্রীত অবস্থায় মাঠে পড়ে আছে।

এ বিষয়ে এসিআই সল্ট লিমিটেডের বিজনেস ডিরেক্টর মো. কামরুল হাসান বলেন, আমাদের কারখানার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ কেজি লবণ সংগ্রহ করে থাকি। কিন্তু মহামান্য আদালতের নিষেধাজ্ঞায় উত্পাদন বন্ধ থাকায় আমরা খুচরা বাজার থেকে লবণ কেনা বন্ধ রেখেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লবণ কেনা চালু করতে পারবো।

লবণ চাষিরা জানিয়েছেন, এক কানি জমিতে ২৫০ মণ লবণ উত্পাদন হয়। এতে খরচ হয় ৪৫ হাজার টাকা। জমি তৈরিতে ২৭ হাজার, মাটিতে পলিথিন বিছাতে দশ হাজার ৫০০ টাকা, জমিতে পানি দিতে তিন হাজার টাকা। নিজের শ্রমের মূল্যসহ আর খরচ আছে। এখন লবণের দাম কমে যাওয়ায় খরচের টাকাই উঠছে না।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে দেশে ভোক্তা ও শিল্পখাতে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টন। বিপরীতে বিসিক দেশে লবণ উত্পাদন এলাকার ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে লবণ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১৮ লাখ টন। গত বছরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, কক্সবাজার সদরসহ কক্সবাজারের উপকূল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলায় লবণ উত্পাদনে জড়িত রয়েছে প্রায় ৪ লাখের বেশি কৃষক ও শ্রমিক। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ১৩টি লবণ উত্পাদন মোকামের অধীনে লবণ উত্পাদন ছাড়িয়েছে ১৮ লাখ টন।

এ বিষয়ে বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক দিলদার আহমদ চৌধুরী বলেন, এ অঞ্চলের কৃষক সাধারণ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মে মাসের শেষ পর্যন্ত লবণ চাষ করে থাকে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে তা আরো বাড়তে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, এ লবণ শিল্প বাঁচাতে হলে সরকারকে বক্সবাজারে একটা ‘লবণ বোর্ড’ গঠন করতে হবে। চাষিরা যেন ঠিক মতো দাম পায় সে ব্যাপারে দেখবে এ বোর্ড। এখন বড় বড় ফ্যাক্টরিতে যে সমস্যা হয়েছে এই সমস্যা যদি সরকার সমাধান করে তাহলে প্রতিমণ লবণ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি করতে পারবো।