রাতের মেঘমুক্ত আকাশে দেখা যায় হাজারো তারা। এগুলো আসলে, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত নক্ষত্র অথবা গ্রহ। যে তারাদের আলো নেভে আর জ্বলে অর্থাত্ মিটমিট করে সেগুলো নক্ষত্র। আর যেগুলোর আলো স্থির হয়ে থাকে সেগুলো হলো গ্রহ। তবে যেগুলো নক্ষত্র, তাদেরই কেবল নিজস্ব আলো আছে। গ্রহগুলোর কোনো নিজস্ব আলো নেই, এরা বিভিন্ন নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়।
প্রোটো তারা
তারা তৈরি হতে গেলে প্রথমে কিছু ধাপ আছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো প্রোটো তারা। কোনো গ্যাসের বড় মেঘ থেকে প্রথমে কিছু মেঘ আলাদা হয়ে যায়। এরাই তৈরি করে প্রোটো তারা। প্রোটো তারা হিসেবে এদেরকে থাকতে হয় খুব বেশি না, মাত্র এক কোটি বছর। তার পরে এখান থেকে তৈরি হয় টি টাওরি তারা।
টি টাওরি তারা
প্রোটো তারারা পরিবর্তিত হয়ে টি টাওরি তারায় পরিণত হয়। এদের থেকেই আবার পরিণত তারা তৈরি হয়। কাজেই টি টাওরি তারা হলো প্রোটো তারা এবং পরিণত তারার মধ্যবর্তী অবস্থা। এরা পুরোপুরি পরিণত না হলেও এদের মধ্যে পরিণত তারার মতোই তাপমাত্রা ও ঔজ্জ্বল্য থাকে। তবে এদের মধ্যে পরিণত তারার মতো ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয় না। পরিণত হওয়ার আগে টি টাওরি অবস্থায় তারারা প্রায় ১০ কোটি বছর থাকে।
পরিণত তারা
আমাদের পৃথিবীকে নিয়ে সূর্য কিন্তু একটা গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে। এই গ্যালাক্সির বেশির ভাগ তারাই হলো পরিণত তারা। সৌরজগতের কেন্দ্র, সূর্যও কিন্তু একটি পরিণত তারা। এই তারারা অনেক উজ্জ্বল হয়। পরিণত তারাদের মধ্যে সবসময় এক ধরনের বিক্রিয়া ঘটে, একে ফিউশন বলা হয়। এই ফিউশনের ফলেই হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম গ্যাসে পরিণত হয়। এই রূপান্তরে প্রচুর তাপ বের হয়। সঙ্গে থাকে উজ্জ্বল আলো। তাই সূর্যসহ প্রত্যেকটি নক্ষত্রকে দেখতে ঠিক আগুনের গোলার মতো মনে হয়। আর তাপমাত্রার কথা কি বলব! সূর্যর পৃষ্ঠের তাপই তো প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার সূর্যের মতো নক্ষত্রদের রং হলুদ হওয়ায় তাদেরকে হলুদ বামনও বলা যায়। পরিণত তারাদেরকে বামনও বলা হয়।
লাল বামন তারা
লাল বামনদের সংখ্যাই এই মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি। এরাও পরিণত তারাদের মতোই উজ্জ্বল। কারণ এদের ভেতরেও ফিউশনের মাধ্যমে হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হয়। তবে তাপমাত্রা কমে যায়। এজন্য এদেরকে দেখতে লাল দেখায়। কিন্তু এই লাল বামনেরা পরিণত তারাদের থেকে ভরে অনেক কম হয়। একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে। একটি লাল বামন তারার ভর সূর্যের ভরের ১ হাজার ভাগের এক ভাগ থেকে শুরু করে বড়জোর সূর্যের ভরের অর্ধেক হতে পারে। তবে একদিক থেকে এরা পরিণত তারাদের থেকে এগিয়েই আছে। কারণ পরিণত অবস্থা থেকে অনেক বেশি দিন লাল বামন অবস্থায় তারারা থাকতে পারে। একটি লাল বামন তারার বয়স ১০ হাজার কোটি বছর হতে পারে।
নিউট্রন তারা
সব তারাদের জ্বালানি অর্থাত্ হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম শেষ হয়ে গেলে যে শ্বেত বামনে পরিণত হবে এমন কোনো কথা নেই। শ্বেত বামনে পরিণত হয় ছোট ছোট নক্ষত্রগুলো। নক্ষত্র আবার ছোট হয়! আসলে এই তুলনাটা করা হয় আমাদের নক্ষত্র সূর্যের সঙ্গে। যে তারাগুলো সূর্যের চেয়ে দেড় থেকে আড়াই গুণ বড় সেগুলোর পরিণতি কিন্তু শ্বেত বামন নয়। তারা পরিণত হয় নিউট্রন তারায়।
দৈত্য তারা
এগুলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির নক্ষত্র। এগুলো তুলনামূলক কম দিনই থাকে। মানে এদের জ্বালানি শেষ করতে মাত্র কয়েক মিলিয়ন বছর সময় লাগে। এই সময়টা আমাদের কাছে অনেক বেশি হলেও আসলে অন্যান্য তারাদের তুলনায় তো অনেক কম। সুপারনোভার মাধ্যমে এই তারাদের জীবন শেষ হয়। সুপারনোভা হলো এক বিশাল বিস্ফোরণ। কোনো কোনো সময় তারাদের ভিতরের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে হঠাত্ সেটির যদি বিস্ফোরণ ঘটে, তবে তাকেই সুপারনোভা বিস্ফোরণ বলে।
