পেরিস্কোপ হলো এমন একটি যন্ত্র, যা দৃষ্টির আড়ালে থাকা লক্ষ্য বস্তুকে দেখতে সাহায্য করে। যন্ত্রটি সাধারণত ব্যবহূত হয় স্থল এবং জল যুদ্ধে। ডুবোজাহাজে এর ব্যবহার অপরিহার্য। এসব ক্ষেত্রে এটি চর্মে বা আচ্ছাদনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পর্যবেক্ষককে তার চারপাশের অবস্থা দেখতে এবং ডুবোজাহাজের নাবিকদের জলতলে থাকার সময় উপরিভাগের দৃশ্য দেখতে সাহায্য করে। দুটি সমান্তরাল আয়না থেকে আলোর প্রতিফলনের পদ্ধতিটি নির্ভর করে পেরিস্কোপ যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এটি সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউব বা নল দিয়ে তৈরি। উপর এবং নিচের বাঁকানো অংশে দুটি আয়না পরস্পর সমান্তরালে স্থাপন করা হয়েছে। আয়না দুটির প্রতিফলন ‘তল’ এমনভাবে সংস্থাপিত যাতে টিউবটির অক্ষের সঙ্গে তা ৪৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করতে পারে। পেরিস্কোপের সামনের কোণে বস্তু থেকে আলোক রশ্মি এসে পরপর দুটি আয়নায় দুটি প্রতিফলন ঘটিয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে এসে ধরা পড়ে। বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর কোনো তুলনাই হয় না। এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেরিস্কোপের দৈর্ঘ্য হলো ১০ মিটার। এটি রয়েছে ইদাহো-এর ইদাহো ফলসে অবস্থিত ন্যাশনাল রিয়েক্টর টেস্টিংয়ের পর্যবেক্ষণাগারে। আণবিক রিয়েক্টরের কাজের পর্যবেক্ষণের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ পেরিস্কোপ তৈরির দাবি করেছে ভারত। আরও জানা গেছে, দীর্ঘ এ পেরিস্কোপটি তৈরি করতে ৩.৯ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয় করা হয়েছে। এটি তৈরি করেছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল এডুকেশন এইড লিমিটেড (ভিইএ)। ইন্দিরা গান্ধি সেন্টার ফর অ্যাটোমিক রিসার্চ (আইজিসিএআর)-এর পরিচালক এস সি চেতল জানিয়েছেন, ‘ভারতের তৈরি এ পেরিস্কোপটিই দীর্ঘতম। এটি প্রটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরে ব্যবহূত হবে। পরমাণু বিক্রিয়া কেন্দ্রের মধ্যে কি হচ্ছে সেটার দেখভালের জন্যই এ পেরিস্কোপ ব্যবহূত হবে।’ শুধু তাই নয়, পেরিস্কোপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিইএ-এর পরিচালক জে বালু জানিয়েছেন, এ পেরিস্কোপ দূর নিয়ন্ত্রিত এবং এর মাধ্যমে ছবি জুম করে দেখাও সম্ভব হবে।
