মাশরুমের জাত ঠিক থাকছে না

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৮
মাশরুম স্পন/বীজ উত্পাদন করে সেখান থেকে কোনো মাশরুম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাভারের মাশরুম চাষিরা। সম্প্রতি শেষ হয়েছে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পঞ্চাশ কোটি টাকার জাপানি অর্থ সাহায্যের বিশাল প্রকল্প। প্রকল্পের শেষ দিকে জাইকা প্রতিনিধিরা প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়ন করতে এসে হতাশ হন এবং শীঘ্রই তাঁরা আর কোনো ধরনের অর্থায়ন করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে, তাই সরকারি অর্থে আবার কর্মসূচি চালু হয়। মাশরুম চাষিদের কাছ থেকে জানা যায়, কর্মসূচি প্রকল্পে অনেক জনবল থাকার পরও মুখ থুবড়ে পড়েছে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র। লাভজনক অনেক উচ্চফলনশীল মাশরুমের জাত এই কেন্দ্রে আছে যেগুলো এই প্রতিষ্ঠান চাষিদের হাতে তুলে দিতে পারেনি। উপরন্তু এরা সারা বছর চাষোপযোগী শাদা ওয়েস্টার মাশরুমের জাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন চাষ-আবাদ না জানা অনেক অপরিচিত মাশরুমের জাতকে। সব মাশরুমের দেহই তুলার মতো সূত্রাকার দেহ কাঠামো বিশিষ্ট, দেখতে সবই একই রকম, ফলে মাশরুমের যে স্পন আমরা ক্রয় করি তার পরিচয় সেই স্পনের গায়ে লিখিত পরিচয়টি। গেলো শীতে আমি ব্যাপকভাবে শাদা ওয়েস্টার মাশরুমের স্পন তৈরি করে কোনো ফলন না পেয়ে প্রচুর লোকসান গুনেছি। প্রায় পাঁচ হাজার প্যাকেট থেকে কোনো ফলন পাইনি। পরে খেয়াল করলাম এটি উচ্চ ফলনশীল ইরেঞ্জি মাশরুম। ইরেঞ্জি মাশরুমের চাষ করতে গেলে ১৪ থেকে ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রা দরকার হয়, কিন্তু আমাকে ওয়েস্টার মাশরুমের বীজের বদলে ইরেঞ্জি মাশরুমের স্পন দেওয়াতে আমার ষাট হাজার টাকার মতো লোকসান গুনতে হয়েছে। এ ব্যাপারে বার বার দায়িত্বপ্রাপ্ত বীজ উত্পাদন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে কোনো সুরাহা হয়নি। ইরেঞ্জি মাশরুমের স্পন বা বীজ উত্পাদনের জন্য তেমন নিম্নতাপের দরকার হয় না; কিন্তু এই স্পন বা বীজ থেকে মাশরুম চাষের জন্য নিম্ন তাপমাত্রার দরকার, অধিকন্তু এর চাষ পদ্ধতিও ভিন্ন। অথচ এই মাশরুমের স্পন তৈরি করে তার গায়ে ওয়েস্টার মাশরুমের জাতের নাম দেওয়াতে মাশরুম চাষিরা প্রতারিত হচ্ছে। মাশরুম চাষিরা নিতান্তই অতি সাধারণ হওয়ায় এরা কোনো অভিযোগ করে না, বরঞ্চ চাষ থেকে ঝরে পড়ছে। দু’একজন অভিযোগ করলে কর্তাব্যক্তিগণ তাঁদেরকে সাত-পাঁচ বুঝিয়ে বিদায় করেন। কখনো কখনো তাঁরা মাশরুম চাষিদের সান্ত্বনার বাণী শোনান—‘আপনাকে আরো ভালো করে ট্রেনিং নিতে হবে’। এই ট্রেনিংয়ের নাম রিফ্রেসার্স ট্রেনিং। দুজনেরই লাভ। অফিসার ট্রেনিং করালে জোটে সম্মানী আর চাষি পান ২০০ টাকা ট্রেনিং এলাউন্স। সাভারের মাশরুম পল্লী জামসিং ঘুরে দেখলে এই ভোগান্তির তীব্রতা অনুধাবন করা যাবে। অনেক মাশরুম চাষিই ভুক্তভোগী। অনেক দাম দিয়ে কেনা তাদের অনেক স্পন থেকে কোনো মাশরুম আসে না। এরকমই বিভিন্ন কারণে মাশরুম চাষিরা ঝরে পড়ছেন। মালয়েশিয়া