সম্ভাবনাময় তরুণ লেখকদের সৃজনশীলতার ভুবনে স্বাগত জানালেন দেশের সৃষ্টিশীল লেখক ও সংস্কৃতিজন। বাংলাদেশের তরুণদের সৃজনধারাকে সঞ্জীবিত করার লক্ষ্যে এইচএসবিসি-কালি ও কলম পুরস্কার ২০১৩ তুলে দেয়া হলো দেশের তরুণ লেখকদের হাতে।
২০১৩ সালের কালি ও কলম পুরস্কার পেয়েছেন— কবিতায় একাকী জমিন গ্রন্থের জন্য মাসুদ পথিক, প্রকাশ করেছে রোদেলা প্রকাশনী। ছোটগল্প ও উপন্যাসে বিতংস গ্রন্থের জন্য ওয়াহিদা নূর আফজা, প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। প্রবন্ধ, গবেষণা ও নাটকে সমকাল পত্রিকার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা গ্রন্থের জন্য ড. রবিউল হোসেন, প্রকাশ করেছে ঝিনুক প্রকাশনী। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর : দলিল ও ইতিহাস গ্রন্থের জন্য রাজিব আহমেদ, প্রকাশ করেছে বইপত্র প্রকাশনী। শিশু ও কিশোর সাহিত্যে বিলু কালু আর গিলুর রোমাঞ্চকর অভিযান গ্রন্থের জন্য মাশুদুল হক, প্রকাশ করেছে আলেকজান্দ্রিয়া প্রকাশনী। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। তবে ওয়াহিদা নূর আফজা দেশে না থাকায় তার পক্ষে পরিবারের এক সদস্য পুরস্কার গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাভাষার বিশিষ্ট কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি প্রফেসর এমেরিটাস আনিসুজ্জামান। বিচারকমণ্ডলীর পক্ষে শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে সংবর্ধিত করেন। আরো বক্তব্য রাখেন এইচএসবিসির করপোরেট ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহবুব-উর-রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাত। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কালি ও কলমের প্রকাশক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।
আসাদুজ্জামান নূর বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আমি এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হলে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অতি প্রধান অতিথি’ হওয়া উচিত। তার মত কবির সান্নিধ্যে আসতে পারা আমার জন্য বিরল সৌভাগ্যের। তরুণ লেখকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ব জুড়ে যে যুদ্ধ, হানাহানি - সাহিত্য আমাদের এর বিরুদ্ধে মানবিক করে তোলে। আমাদের নতুন প্রজন্মের লেখকরা বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলেবে এটাই প্রত্যাশা।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, আর সব মানুষ যে পথ দিয়ে হাঁটছেন সেই পথ দিয়ে সবাই হাঁটে না। যারা নতুন পথের সন্ধান দেন তারাই সৃষ্টিশীল। এই তরুণ লেখকদের মাঝে যদি সেই নতুন পথে চলবার আগ্রহ দেখা যায় — তবে এই পুরস্কার পাবার তিনি যোগ্য।
মাহবুবুর রহমান বলেন, কাব্য বেঁচে থাকলেই সভ্যতা বেঁচে থাকে, মানুষ বেঁচে থাকে। সৃষ্টিশীল কাজের মধ্য দিয়ে তরুণ লেখকরা আমাদের সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন — এটাই প্রত্যাশা। পুরস্কার প্রধান শেষে কৃষ্ণকলি ও তার দল সংগীত পরিবেশন করেন।
