ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ জোট) উচিত নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প কাউকে খোঁজা। ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে এও উল্লেখ করা হয় বিজেপি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেও তাহলে জোটের শরিক দলগুলো হয়তো মোদীকে প্রধানমন্ত্রী নাও করতে পারে।
প্রতিবেদনে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের সরকার পরিচালনার নানা দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এলেও দেশের জন্য খুব যে ভাল কিছু হবে সেটা মনে করাটা মনে হয় ঠিক হবে না। সমপ্রতি বিভিন্ন জরিপে নির্বাচনে জয়ের দিক দিয়ে নরেন্দ্র মোদী এগিয়ে আছেন। এক সময় চা বিক্রেতা মোদী গুজরাটে অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন বলে প্রচার আছে। গুজরাটকে উন্নয়নের রোল মডেল বলে মনে করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। সেই সুনামটা হয়তো তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাহুল গান্ধীর ক্ষেত্রে নেই । তবে বিতর্ক আছে মোদীকে নিয়ে। বিশেষ করে ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় মোদীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও আদালতের রায়ে তিনি খালাস পেয়েছেন। তবে ওই সময় ঘটনার সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে তার কাছ থেকে কখনোই সঠিক উত্তরটি পাওয়া যায়নি। গত বছর উত্তর প্রদেশে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ক্ষেত্রেও তিনি সামান্য নিন্দা পর্যন্ত জানাননি।
অভিযোগ আছে, মোদী ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় একটি ধর্মীয় স্থাপনার পাশে সমাবেশ করতে আন্দোলনকারীদের সংগঠিত করেছিলেন। এর দুই বছর পর সেখানে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে ২ হাজারের মতো মানুষ মারা যায়। এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছিল হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। আর মোদী এই সংঘের আজীবন সদস্য। মোদীর পক্ষে অভিজাত শ্রেণীর একটা বিরাট সমর্থন আছে। তারা মোদীর পক্ষে দুটি যুক্তি তুলে ধরেন। প্রথমত, তারা মনে করেন, গুজরাট দাঙ্গায় সুপ্রিম কোর্ট মোদীকে খালাস দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কিছুই পায়নি। দ্বিতীয়ত, মোদী অনেক পরিবর্তন এনেছেন। তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক কিছুই করেছেন। তিনি হিন্দু এবং মুসলমানদের মঙ্গলের জন্য দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।
প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের লোক বাস করে। দেশটিতে মাঝে মাঝে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা দেখা দেয়। সমপ্রতি প্রয়াত সাংবাদিক ও কলামিস্ট খুসবন্ত সিংও সামপ্রদায়িকতার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এর ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে সেই বিষয়ে সচেতন ছিলেন তিনি। মোদী মুসলিমবিরোধী ভোট পেতে নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোদী হয়তো দিল্লি থেকে ভালভাবেই কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু শিগগিরই কিংবা পরে যখনই হোক না কেন মোদীকে হয়তো সামপ্রদায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তিনি বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এর ফলে কোনো আধুনিক মানুষই তার প্রশংসা করে না। মুসলমানরাই বা কিভাবে এরকম বিবাদকারী মানুষকে বিশ্বাস করতে পারে ?
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোদী এখন পর্যন্ত সামপ্রদায়িক সহিংসতায় তার ভূমিকার বিষয়ে ব্যাখ্যা করেননি এবং অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি। যদি তিনি সেটা করতেন তাহলে হয়তো তাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করা যেত। মোদী যে কিনা বিভেদকে শক্তিশালী করেছেন তাকে সমর্থন দেওয়াটা হবে ভারতকে বিদীর্ণ করার সমান। পত্রিকাটি ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে বলে, হয়তো কংগ্রেসের কাজ তেমন প্রশংসার নয়। কিন্তু তারপরও মোদীর দিকে লক্ষ্য রেখে কংগ্রেসই পছন্দের। আর যদি বিজেপি জয় পায় তাহলে জোটের উচিত হবে মোদীর বিকল্প কাউকে প্রধানমন্ত্রী করা।
