সাধারণ থেকে অসামান্য!

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৮
নিখুঁত ব্যাটিং টেকনিক তার কোন কালেই ছিল না। টুকটাক জ্বলে ওঠা বাদ দিলে বল হাতেও সব সময় ধারাবাহিক নন। ফিল্ডিংটা চলনসই। টেস্ট আর ওয়ানডে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করলেও থাকতে হয় অন্য কারও ছায়া-তলে! এসব ছোটখাটো তথ্য তাকে কখনওই গ্রেটদের পর্যায়ে নিয়ে যায় না। আর কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনেদের দলে গ্রেট হবার সুযোগই বা কই! কিন্তু, সেই অ্যাঞ্জেলো ম্যথুসই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কা দলের জন্য বড় এক সম্পদের নাম। ‘সাধারণ’ সেই ম্যাথুসের উত্থানটাও হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়েই। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। আর ব্যাটিং-বোলিংয়ে পারফরম্যান্স মিলিয়ে সেবার থেকেই দলের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি কখনও। দিনের পর দিন পারফরম্যান্সের গ্রাফটা এতোটাই ঊর্ধ্বগামী ছিল যে, ২০১৩ সালে হয়ে যান লঙ্কান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। বয়স তখন মাত্র ২৫। এতো কম বয়সে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে আর কেউই টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব করেননি। তাকে বলা হয়, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের নতুন দিনের নায়ক। সেটা বলাটা অযৌক্তিক নয়। দুই মহিরূহ সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে ৩৬ বছর বয়স নিয়ে আর খুব বেশিদিন খেলতে পারবেন না বলেই অনুমান করা হচ্ছে। সেখান থেকে লঙ্কান ক্রিকেটকে আরো এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্বটা এককভাবে নিতে হবে অ্যাঞ্জেলে ম্যাথুসকে। টি-টোয়েন্টিতে সেই যাত্রাটা শুরু হবে আজকের ম্যাচের পরই। আজকের ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলতে যাচ্ছেন এই দুই কিংবদন্তী। সেই বিদায় বেলার বিশ্বকাপে কাঁপতে থাকা শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কিছুটা হলেও উজ্জ্বল অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। সর্বশেষ সেমিফাইনালের কথাই ধরা যাক। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে ৪০ রানের এক ইনিংস খেলে রান রেট বাড়িয়ে নিয়ে গেলেন। আর সেই প্রভাবটা পড়লো ম্যাচের শেষে। ঝড়ের দাপটে শেষটায় ডাক-ওয়ার্থ লুইস আইনে ২৭ রানের জয় দিয়ে ফাইনালের টিকেট পেয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। ঝড়ের দাপটে জয় পেয়ে গেল ‘ম্যাথুস-ঝড়’! গোটা টুর্নামেন্টেই ব্যাটিংটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যেও পাঁচ ম্যাচে ৩৩.৩৩ গড় নিয়ে ১০০ রান করেছেন ম্যাথুস। ব্যাটিংটাকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়ার জন্য অধিনায়কত্ব নেয়ার পর থেকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন মিডিয়াম পেস বোলিংটা। তারপরও নেদারল্যান্ডসকে মাত্র ৩৯ রানে গুটিয়ে ফেলার দিনে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। সব মিলিয়ে তাই লঙ্কান দলে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হলেন অ্যাঞ্জেলো ডেভিস ম্যাথুস। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন। সেমিফাইনাল খেললেও খেলা হয়নি ফাইনাল। ফাইনালে চারটি বড় পরিবর্তন এনে আলোচনার ঝড় তুলেছিল শ্রীলঙ্কার টিম ম্যানেজমেন্ট। পরের ফল টা সবারই জানা। তিন বছর বাদে আবারও আরেকটি ফাইনাল। ফরম্যাট বদলে গেলেও বদলায়নি প্রতিপক্ষ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ তাই কিছুটা হলেও সেই ফাইনাল না খেলার দু:খ ভুলতে পারবেন ম্যাথুস। কিন্তু শ্রীলঙ্কা চারটি বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের দু:খ ভোলা তো আর এতো সহজ নয়। কষ্টের প্রলেপ হতে পারে আজকের ম্যাচে জয়। সেই জয় এনে দেয়ার দায়িত্বটাও বর্তায় ম্যাথুসেরই উপর!