বই মনের খোরাক যোগায়। সেই বই বিক্রি করে কেউ কেউ পেটের খোরাকও যোগাচ্ছেন। পুরনো হলেও ক্ষতি কি? ক্রেতাতো আছেন।
রাজধানী ঢাকায় পুরনো বই বিক্রি করে অনেকেই সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। কেউ কেউ পুরনো বই বিক্রির পেশায় কাটিয়ে দিয়েছেন বহু বছর। এরাও সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগেই শুরু করেন পুরনো বইয়ের ব্যবসা। ঢাকার পুরানা পল্টন ও নীলক্ষেতে পুরনো বইয়ের জমজমাট বিক্রি সবার নজর কাড়ে। এখন অন্যান্য এলাকায়ও পুরনো বই বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত অর্ধেক দামে পুরনো বই কেনা যায়। তাই ক্রেতাদের যারা বই কিনতে চান, অথচ দাম বেশি তারা নতুন বইয়ের বদলে পুরনো বইয়ের দোকানেই যান। আবার কোন বই নতুন পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু পুরনো বইয়ের দোকানে আছে—এমন ক্রেতাও ভীড় জমান পুরনো বইয়ের দোকানে।
পুরনো বইয়ের বিক্রেতা ইমরান তালুকদার নানা ঘাট পেরিয়ে থিতু হয়েছেন এই ব্যবসায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে ফুটপাতে পুরনো বই বিক্রি করেন। বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। গত ৫ বছর ধরে তিনি এখানে বই বেচেন। তার আগে জীবিকার তাগিদে অন্য কাজও করেছেন। ফরিদপুরের ইমরান ১৯৯১ সালে ঢাকায় এসে প্রথমে গুলিস্তানে ‘নূর মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামে একটি হোটেলে কাজ শুরু করেন। এসএসসি পাস ইমরান পরে যোগ দেন মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে। কিন্তু সেখানেও মন টেকেনি। নিজেই কিছু করার চিন্তা থেকে বই বিক্রি শুরু করেন। নিজের জমানো আর ধার করা স্বল্প পুঁজি নিয়েই ব্যবসাটা শুরু করেন। ফুটপাতে হলেও দোকানের নাম দিয়েছেন ‘দেবদারু’। সেখানে নিজের মনের একটি কথাও লিখে রেখেছেন-‘শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াবার মতাদর্শে’। জানালেন, নিজের পছন্দমতো বই কিনি। যেগুলো সাধারণত বইমেলায় পাওয়া যায় না। তিনি বাংলাবাজার, নীলক্ষেত আর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট থেকে বই কিনে এখানে বিক্রি করেন। এই বই বিক্রির টাকা গ্রামে পাঠান। সেখানে তার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে থাকে। আর ঢাকায় মেসের খরচ জুগিয়ে দিন কেটে যায়।
অন্য ব্যবসার চেয়ে বইয়ের ব্যবসা আলাদা। রুচিশীল মানুষ বই কেনেন। সবাই বই কিনতে পারেন না কিংবা বই পড়েন না। জাতি গঠনে বই পড়ার অভ্যাস গড়া জরুরি। নতুন বইয়ের দাম বেশি হলেও পুরনো বই কম দামে কিনে পড়া যায়। তাই এই ব্যবসা করতে পেরে খুশি ইমরান। বই বিক্রি শুধু টাকা আয়ের জন্যই নয়, মনেও তৃপ্তি আনে। বললেন, ‘নিজেও বই পড়তে পারি। তাই ব্যবসাটা ভালোই লাগে।’
