লাওসকে হারানোই লক্ষ্য বাংলাদেশের

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ২২:০১

চূড়ান্ত ফুটবলাররা হলেন

টুটুল হোসেন বাদশা, মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, নাবীব নেওয়াজ জীবন (আবাহনী), গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, সুশান্ত ত্রিপুরা, মাসুক মিয়া জনি, ইমন বাবু, মাহবুবুর রহমান সুফিল, তৌহিদুল আলম সবুজ, মতিন মিয়া, ইব্রাহিম, নাসিরউদ্দিন চৌধুরী (বসুন্ধরা কিংস), গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা, ইয়াসিন খান, বিশ্বনাথ ঘোষ, বিপলু আহমেদ (শেখ রাসেল), জামাল ভুইয়া (অধিনায়ক) রিয়াদুল হাসান, রহমত মিয়া, (সাইফ স্পোর্টিং), গোলকিপার মাজহারুল ইসলাম হিমেল, রবিউল হাসান এবং আরিফুর রহমান (আরামবাগ)।  

 স্পোর্টস রিপোর্টার

লাওসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ ফুটবল দল আজ ঢাকা ছাড়বে। লাওসে খেলা হবে ৬ জুন। তার আগে ফুটবল দল থাইল্যান্ডে ক্যাম্প করবে ১০ দিন। ফুটবলাররা সেখানে হোটেলে থাকবে। থাই লিগের দুটি ক্লাবের বিপক্ষে ২৮ মে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ এবং ১ জুন দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ। ৩ জুন থাইল্যান্ড হতে লাওস চলে যাবেন ফুটবলাররা। তিনদিন আগেই পাঠানো হচ্ছে ফুটবল দলকে। যেন তারা সেখানে গিয়ে নিজেদের মানিয়ে নিতে সময় পান।

২০২১ এশিয়ান কাপ এবং ২০২২ ফিফা কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাই, দুটি বাছাই একই সঙ্গে চলবে। বাংলাদেশ লাওসের বিপক্ষে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এই একটি খেলায় অতিক্রম করতে পারলে বাংলাদেশের ফুটবল দুয়ার খুলবে। আরো চারটি দেশের বিপক্ষে ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ আসবে। শুধু বাংলাদেশ নয় মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী ফুটবল দেশেরও একই পরিস্থিতি। তারাও বাংলাদেশের মতো একটি ম্যাচ খেলে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এমন দেশের সংখ্যা ১২টি। এই দেশগুলো নিয়েই প্রথম রাউন্ডের বাছাই খেলা হবে ৬, ৭ এবং ১১ জুন। কোচ জেমি ডে বলছেন প্রথম খেলাটা ওদের মাঠে দর্শক চাপ থাকবে। তবে ভালোভাবে কাটিয়ে উঠতে পারলে ঘরের ম্যাচে সুবিধা নেয়া যাবে।’ লাওসকে হারানোই টার্গেট জানিয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভুইয়া।

লাওসের বিপক্ষে আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। সিলেটে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে হারিয়েছিল লাওসকে। ড্র আছে এই দলের বিপক্ষে। এসব কথা পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল এগিয়ে যায়। লাওসকে লাওসের মাঠে হারানো যাবে এমন কথা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কঠিন লড়াই হবে। লাওস তাদের মাঠে বাংলাদেশকে ছেড়ে দেবে না সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

লাওসের বিপক্ষে বাংলাদেশ লড়াইয়ের জন্য গতকাল ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে। ৪৮ ফুটবলারের নাম এএফসিতে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। সেখান থেকে ২৩ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যারা ৬ এবং ১১ জুন লাওসের বিপক্ষে দুটি ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন, আতিকুর রহমান ফাহাদ। তারা এবছর লিগেও ফিরতে পারবেন কিনা আশঙ্কা রয়েছে। রক্ষণে নাসিরউদ্দিন চৌধুরীকে নেয়া হয়েছে। এই ডিফেন্ডার এতদিন উপেক্ষার শিকার হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কাপ, সাফেও তাকে নেয়া হয়নি। সেই নাসিরকে শেষ পর্যন্ত দলভুক্ত করা হয়েছে। নাসিরের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে সে ডিফেন্স লাইন সামাল দিয়ে স্ট্রাইকারদেরও সাপোর্ট দিতে পারেন। লিগে আবাহনী বসুন্ধরা ম্যাচে খেলতে পারেননি। ম্যাচের আগে মাংশপেশীতে টান লেগে একাদশ হতে ছিটকে গিয়েছিলেন। সেই নাসির কিভাবে জাতীয় দলে ঢুকলেন। প্রথম কথা হচ্ছে উপায় ছিল না। রক্ষণে খেলোয়াড় কম। কোচ জেমি ডে বলেছেন নাসির যে চোটে পড়েছিলেন তা খুব একটা কঠিন কিছু নয়। আস্থা রাখা যায়।  

লাওসের বিপক্ষে জাতীয় দলের নতুন মুখ আরামবাগের আক্রমণভাগের আরিফুর রহমান, সাইফ স্পোর্টিংয়ে রিয়াদুল হাসান রাফি।  গত ৯ মার্চ কম্বোডিয়ার ম্যাচে বাংলাাদেশ প্রীতি ম্যাচে জিতেছিল। সেই ম্যাচের শেখ জামালের মঞ্জুরুর রহমান মানিক, শেখ রাসেলের সোহেল রানা এবং আবাহনীর রুবেল মিয়া এবং গোলকিপার শহিদুল ইসলাম সোহেল বাদ পড়েছেন। সোহেল চোট পেয়েছেন। অন্যদের পারফরম্যান্স খারাপ। সবমিলিয়ে তপু ও ফাহাদসহ ৬ জন বাদ পড়েছেন।

স্ট্রাইকার মতিন মিয়া, নাবীব নেওয়াজ জীবন গোল পাচ্ছেন। তাদের উপর আস্থা থাকলেও সঙ্গে নেয়া হয়েছে তৌহিদুল আলম সবুজকে। জেমি ডে বললেন সাপোর্ট পাওয়ার জন্য নেয়া হয়েছে।