একটা সময় বাঙালিয়ানা সব আয়োজনে আমাদের এখানকার মেয়েদের আলতার ব্যবহার ছিল এক রকম অলিখিত নিয়ম। কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে আমাদের মাঝ থেকে। কিন্তু আলতার রং একেবারে যে মুছে যায়নি তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশীয় উত্সবে মেয়েদের আলতা ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। আমাদের বৈশাখের আয়োজনে দেখা যায় এই আলতার নকশী ব্যবহার। বৈশাখের এই আয়োজনে আলতা নিয়ে লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
বাঙালি মেয়েদের সাজসজ্জার কথা এলেই বিভিন্ন উপকরণের মাঝে যে জিনিসটি নজর কাড়ে তা হলো আলতা। পায়ে আলতা মেখে একসময় গ্রামের বিভিন্ন উত্সবে মেয়েদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কালে কালে আলতা তার পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেললেও এখনো আমাদের জাতীয় অনুষ্ঠান পহেলা বৈশাখ, পূজা কিংবা বিয়ের আয়োজনগুলোতে আলতার ব্যবহার দেখা যায় পুরোনো দিনগুলোর মতোই। এ ছাড়াও এখনো নানা নাচের অনুষ্ঠানে মেয়েদের পায়ে ঘুঙুরের সাথে আলতার মিতালি দেখা যায়। আসছে পহেলা বৈশাখ। তাই এখন মেয়েদের সাজসজ্জার তালিকায় আলতার নামটিও যে রঙিন অক্ষরে লেখা আছে তা হলফ করে বলা যায়।
আর এর কারণ হলো—বৈশাখী সাজসজ্জায় আলতা না হলে সৌন্দর্য যেন সম্পূর্ণ হয় না। এ নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নীলিমার সাথে। যিনি আলতা কেনার জন্য এসেছিলেন নিউ মার্কেটের চাঁদনি চকে। এ নিয়ে নীলিমা বলেন, ‘প্রতিবারেই আমি পহেলা বৈশাখের আগে আলতাসহ আরো অনেক জিনিসপত্র কিনি। তবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে আলতা আমার চাই-ই চাই। বৈশাখে পায়ে আলতার কারুকাজ এক ভিন্ন অনুভূতি দেয়।’ বৈশাখে আমাদের বাঙালি মেয়েদের সাজের এই পণ্যটি আলাদা মাত্রা যোগ করে। এ প্রসঙ্গে এলিফেন্ট রোডের এক বিয়ের দোকানের মালিক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন দেখেছি, আমাদের সমবয়সী কিংবা আমাদের চেয়ে বড় বড় মেয়েরা আলতা পরে বিভিন্ন আয়োজন উদযাপন করতেন। এখন আর তা দেখা যায় না। তবে প্রতিবার পহেলা বৈশাখ এলে মনে হয় আমরা আবার সেই সব দিনে ফিরে এসেছি। এর কারণ শুধু এই সময়টাতে আলতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই মনে হয়।’ যখনই দোকান মালিক সাব্বির সাহেবের সাথে কথা হচ্ছিল ঠিক সে সময় আলতা কিনতে দোকানে এসেছিলেন ১৪ কি ১৫ বয়সের মৌ। যে এসেছে তার মায়ের হাত ধরে। তার কাছে জানতে চাইলাম আলতা দিয়ে কী করবে তুমি? তখন মৌ জানাল, ‘আমি সবসময়ই আসি আলতা কেনার জন্য। কারণ বিভিন্ন নৃত্যের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে হলে আলতা দরকার হয় তাই আমার সবসময়ই আলতা প্রয়োজন হয়।’ আলতার চাহিদা দিন দিন কমতির দিকে যাওয়ার ফলে সব মার্কেটে আলতা পাওয়া যায় না। তবে ঢাকার নিউমার্কেটের চাঁদনি চক, পুরান ঢাকার চক বাজার, এলিফ্যান্ট রোডের বিয়ের সামগ্রীর দোকানগুলোতে আলতা পাওয়া যায়। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন প্রসাধনী দোকানগুলোতেও আলতা পাওয়া যায়। দামের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মার্কেট ভেদে বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে আলতা। তবে আলতার আকারের উপর দাম সবচেয়ে বেশি উঠানামা হতে পারে। সাধারণত বিভিন্ন আকার ভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা দামের মধ্যে ভালো আলতা পাওয়া যাবে এই মার্কেটগুলোতে কিংবা প্রসাধনী দোকানগুলোতে।
