ভেজাল ও বিষাক্ত খাবার স্যালাইন উত্পাদন ও বাজারজাত চলছে প্রকাশ্যে। মোবাইল কোর্টের অভিযানে বিষাক্ত খাবার স্যালাইন উত্পাদনকারীদের প্রতিরোধ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর নেপথ্যে কারণ নিরাপদ খাদ্য অধ্যাদেশের দুর্বল আইন। সামান্য জেল জরিমানার বিধান দিয়ে এক টাকায় নব্বই পয়সা মুনাফালোভী বিষাক্ত খাদ্য সামগ্রী উত্পাদনকারীরা অপ্রতিরোধ্য বলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান। এ বিষাক্ত খাদ্য উত্পাদনকারীরা নীরবে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে। এজন্য বিষাক্ত খাদ্য সামগ্রী উত্পাদনকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান চালু করলে প্রতিরোধ সম্ভব বলে কর্মকর্তাদের দাবি।
সোমবার র্যাবের পরিচালনায় মোবাইল কোর্ট উত্তর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহাখালী আন্তর্জাতিক উদারাময় কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) বিপুল পরিমাণ নকল খাবার স্যালাইন ও বিষাক্ত ক্যামিক্যাল জব্দ করে। এ কারখানার মালিক সিদ্দিক আইসিডিডিআরবির এক সময় কর্মচারী ছিল। বছর খানেক আগে ১৪ হাজার টাকা ভাড়ায় উত্তর বাড্ডায় টিনশেডের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসিডিডিআরবির নকল খাবার স্যালাইন তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে সিদ্দিকের উক্ত নকল ভেজাল ও বিষাক্ত খাবার স্যালাইন তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিকসহ পাঁচজনকে আটক করে।
মোবাইল কোর্টকে সিদ্দিক জানিয়েছে, তার কারখানায় তৈরি নকল, ভেজাল ও বিষাক্ত খাবার স্যালাইন মিটফোর্ড বৃহত্তর ওষুধের বাজারে নিয়মিত সরবরাহ করে আসছে। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন ওষুদের দোকানে এ স্যালাইন সরবরাহ করা হতো। মোবাইল কোর্ট সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়। অপর চার কর্মচারী নবীন খান, কবির হোসেন, মো. স্বপন ও মাসুদ আকন প্রত্যেককে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
