আদিবাসী নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সমতল অঞ্চলে কিংবা পাহাড়ী জনপদে সব জায়গায় আদিবাসী নারীকে ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যাসহ অপহরণ ও নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে। একজন আদিবাসী নারী ঘর থেকে বের হলে সে নিরাপদে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত তার পরিবার-পরিজনের নানা ধরনের শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে তারা পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ আহবান জানিয়েছেন।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। মানববন্ধন শেষে নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক চঞ্চনা চাকমার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পেশ করেন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, আদিবাসী নারীদের উপর যেভাবে সহিংসতা বাড়ছে তাতে করে আজ পুরো আদিবাসী সমাজ আতঙ্কিত।
আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক চঞ্চনা চাকমা আদিবাসী নারীদের সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত তিন মাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতলে কমপক্ষে ৯ জন আদিবাসী নারীকে ধর্ষণ, ধর্ষণের পরে হত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছেন ২ জন। এছাড়াও কেবলমাত্র ২০১৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৫৪ জন এবং সমতল অঞ্চলের ১৩ জনসহ মোট ৬৭ জন আদিবাসী নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে।
কাপেং ফাউন্ডেশনের বিপাশা চাকমা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আর কতজন আদিবাসী নারী ধর্ষণের শিকার হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসবে? তিনি বলেন, শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে পাহাড়ের আদিবাসী মানুষসহ নারীরা নানা রকম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনকে কার্যকর এবং আদিবাসী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নসহ নিরাপত্তা বিধান করার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজীব মীর, দেশপ্রেমিক জোটের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইনামুল হক, বিসিএইচআরডি’র পরিচালক মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সমন্বয়কারী দিলারা রেখা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিষমান চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের মনিরা ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য রিপন চন্দ্র বানাই, নারী পক্ষের কামরুন নাহার প্রমুখ।
