প্রি য় মু খ .......................

সবার সেরা শ্রাবণী

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২০
গানের প্রতি শ্রাবণী চৌধুরীর ঝোঁক ছোটবেলা থেকে। পরিবার থেকে দেয়া হত অকুণ্ঠ সমর্থন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় ভর্তি হন চট্টগ্রাম সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ে। টানা সাত বছর বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে গানের তালিম নেন। আয়ত্তে আনেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত আর রবীন্দ্র সঙ্গীত। কণ্ঠে ফুটিয়ে তুলেন সযতনে। নিজেকে প্রমাণের জন্য অংশ নিতে থাকেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। পরিশ্রম আর একান্ত মনোযোগের কারণে ফলাফলও আসতে থাকে। নিজের ঝুলিতে জমা হতে থাকে নানা পুরস্কার। ২০০০-২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় গানে চট্টগ্রাম জেলা থেকে ২য় স্থান অর্জন, ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান, ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় নেসক্যাফে থ্রি ইন ওয়ান প্রতিযোগিতায় ক্যাম্পাস স্টার হওয়া তার উল্লেখযোগ্য অর্জন। শ্রাবণী অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি করে এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিন সায়েন্সে পড়ছেন। বিজ্ঞানে পড়াশোনা মানে অন্যদের চাইতে বাড়তি পরিশ্রম। বেশি পড়ালেখা করতে হয়। ল্যাব ক্লাসে ব্যবহারিক নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়। এ বাড়তি পড়াশোনা সামাল দিয়ে সঙ্গীতকে কিভাবে সময় দিতেন? জিজ্ঞেস করলে শ্রাবণী জানায়, গানের প্রতি ছোটবেলা থেকে আমার দারুণ আগ্রহ ছিল। বাসা থেকে বাবা-মায়ের সমর্থন পেতাম। প্রতি সপ্তাহের রুটিনে গানের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখতাম। বলা যায়, প্রচণ্ড ভালবাসা থাকার কারণে সঙ্গীতচর্চা থেকে আমি ছিটকে পড়িনি। শৈশব থেকে আরেকটি বিষয়ে ঝোঁক ছিল তার। নাচ। কিন্তু পরিবারের সবাই চাইত, মেয়ে গায়িকা হোক। তাই সে সময় নিজের ইচ্ছেকে বাস্তব রূপ দেয়া সম্ভব হয়নি। শৈশবের ছোট্ট শ্রাবণী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। মা-বাবাকে জানিয়ে ভর্তি হন নাচের তালিম নিতে। তারাও না করেননি। মেয়ে বড় হয়েছে। তার মতামতের মূল্য আছে। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ এবং গান দুটোতে নিজেকে প্রকাশ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ রাখেন। শ্রাবণী চৌধুরী এখন ৩য় বর্ষে পড়ছেন। পড়াশোনা শেষ করে দেশের জন্য মেরিন সায়েন্সে ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখছেন।