ইহা কেমন শত্রুতা!

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ২২:২৫

বাংলায় ‘প্রতিহিংসা’ শব্দটি সংজ্ঞায়িত করিলে দাঁড়ায় হিংসার বদলে হিংসা। আরো সহজ করিয়া বলিলে, নাকের বদলে নাক, চক্ষুর বদলে চক্ষু, কর্ণের বদলে কর্ণ। কিন্তু কাহারো প্রতি শত্রুতাবশত তাহার পুষ্করিণীর মত্স্য বিষ প্রয়োগ করিয়া মারিয়া ফেলা কি  কেবল প্রতিহিংসা বলিয়া চালানো যাইবে? নাকি তাহারও অধিক কিছু? ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদ হইতে জানা গিয়াছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌর এলাকার সোলায়মানের আদর্শ মত্স্য খামারে বিষ প্রয়োগ করিয়া অন্যূন ২ লক্ষ টাকার মত্স্য নিধন করিয়াছে দুর্বৃত্তরা। খামার মালিক সোলায়মান মিয়া থানায় অভিযোগ করিয়া জানাইয়াছেন, শত্রুতাবশত তাহার খামারের মত্স্য সম্পদ ধ্বংস করা হইয়াছে।

যথার্থই সংবাদের শিরোনামে প্রশ্ন রাখা হইয়াছে, ইহা কেমন শত্রুতা! কেবল সোলায়মান মিয়ার খামারটিতেই নহে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায়শই শত্রুতাবশত মত্স্য অথবা বৃক্ষ ধ্বংস করিতে দেখিয়া আসিতেছি। কিছুকাল পূর্বে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় তিনটি পুষ্করিণীতে দুর্বৃত্তরা বিষ দিয়া দরিদ্র মত্স্যজীবীদের পথে বসাইয়াছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের বাক-বিতণ্ডা হইতে পারে, মামলা-মোকাদ্দমা হইতে পারে। তাহা অনাকাঙ্ক্ষিত হইলেও অস্বাভাবিক নহে। কিন্তু শত্রুতাবশত কাহারো মত্স্য মারিয়া ফেলা, ফলন্ত বৃক্ষ কাটিয়া ফেলা কোনো স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কের কর্ম নহে।  ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুসারে ইহা গুরুতর অপরাধ। অধিকন্তু মত্স্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এ ইহাও বলা আছে যে, মত্স্য মারিবার বা কোনো কারণে কেহ পানিতে বিষ প্রয়োগ করিতে পারিবে না।

এই ধরনের অপরাধ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির যোগ্য বলিয়া আমরা মনে করি। মত্স্য সংরক্ষণ আইন ১৯৮৫-এর ৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বিষ প্রয়োগে মত্স্য নিধন করিলে কমপক্ষে ২ বত্সর এবং সর্বোচ্চ ৫ বত্সরের জেল এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা হইবে। যেই হারে অন্যের খামারে শত্রুতাবশত মত্স্য নিধনের ঘটনা ঘটিয়া থাকে, তাহাতে এই আইন আরো কঠোর হওয়া উচিত বলিয়া আমরা মনে করি। কারণ আইন কঠোর হইলে, এই অপরাধ কমিতে বাধ্য। অধিকন্তু প্রায়শই লক্ষ্য করা যায়, অপরাধী ধরা পড়ে না এবং ধরা পড়িলেও সঠিক প্রমাণ ও সাক্ষীর অভাবে ছুটিয়া আসে। এই ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরো একটু মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। অপরাধ রাত্রির অন্ধকারে হইলেও অপরাধীকে খুঁজিয়া বাহির করা পুলিশের জন্য কোনো জটিল কাজ নহে। প্রতিটি অপরাধের কমপক্ষে একটি মোটিভ থাকে। কাহারা, কেন, কোন স্বার্থে সোলায়মানের মত্স্য মারিয়া ফেলিল তাহা সততার সঙ্গে অনুসন্ধানে নামিলেই পুলিশ জানিতে পারিবে। মোদ্দা কথা, এই অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা একান্তই জরুরি।