মোহামেডান আবাহনী ‘ফাইনাল’ আজ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০০
মোহামেডান ও আবাহনী আজ মধুমতি ব্যাংক স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হলেও আসলে এটিই প্রতিযোগিতার অলিখিত ফাইনাল। যদিও টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে শনিবার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডানের লড়াই শুরু হবে বিকাল ৫টায়। এ টুর্নামেন্টে মোহামেডান ও আবাহনী একই গ্রুপে ছিল। সেই ম্যাচে দুই দলের জয়-পরাজয়ের কোনো গুরুত্ব ছিল না। যে কারণে মরিয়া হয়ে লড়াই করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েনি নীল হলুদ এবং সাদাকালো দলের খেলোয়াড়রা। একই গ্রুপে পড়ে দুই দল যেমন বিব্রত তেমনি এখন সেমিফাইনালে নেমেও আছে অস্বস্তিতে। খেলোয়াড়রাও মনে করছেন উভয় দলের মধ্যে ফাইনাল হলেই দারুণ দেখাতো। আবাহনীর অধিনায়ক মো. সুজন বলেছেন, ‘মোহামেডান-আবাহনীর ফাইনাল দর্শক বেশি পছন্দ করে।’ একই সুর মোহামেডান অধিনায়ক জাহিদ হোসেন এমিলিরও। টুর্নামেন্টের গ্রুপিংটা যদি আরেকটু বিচক্ষণতার সাথে করা হয়; তাহলে মোহামেডান-আবাহনী মাঝ পথে মুখোমুখি হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগটা কম থাকবে বলে মত দিয়েছেন আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত দাস রূপু। টুর্নামেন্টের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন ‘আগামী টুর্নামেন্টের সময় বিষয়টি নিয়ে ভাববেন।’ তাহলে হয়তো একই টুর্নামেন্টে দুবার মুখোমুখি হতে হবে না সমর্থকনির্ভর দুদলকে। এখন সেমিফাইনাল বলে উভয় দলের বাঁচা-মরার লড়াই আজ। ফাইনালে যেতে হলে জিততে হবে। অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। গ্রুপ পর্বে এ দুটি দলের খেলা দর্শকদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আজ সে সুযোগ থাকছে না। ভালো খেলা উপহার দিতে না পারলে বিদায়। মোহামেডান এমিলি, সবুজ, জাহিদের কথা হচ্ছে তারা আবাহনীকে বিদায় করে দিয়ে ফাইনালের টিকিট নিয়ে ক্লাবে ফিরবেন। আর আবাহনীর সুজন, মিশু, ওয়ালী ফয়সাল, শাহেদ, গোলকিপারদের কথা হচ্ছে মাঠে এসে মোহামেডানকে প্রমাণ করতে হবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কে সেরা। মোহামেডানের পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলা এবং আবাহনীর ইরানী কোচ আলী আকবর একমত ‘এই দুই দলের খেলা মানেই বাংলাদেশের সেরা ম্যাচ।’ এখন খেলোয়াড়দের উপর নির্ভর করছে তারা কতটা ভালো খেলে দর্শক মন জয় করতে পারে। মোহামেডান এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলছে। ভালো খেলছে আবাহনীও। দুই দলেই দুজন ভালো মানের বিদেশি ফুটবলার এসেছেন। এরা ম্যাচের আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। মোহামেডানের নাইজেরিয়ান হেনরি এরই মধ্যে দারুণ খেলেছেন। মোহামেডানের রক্ষণভাগ শক্ত করেছেন। আবার অন্যদিকে আবাহনীর আক্রমণভাগে পর্তুগীজ স্ট্রাইকার সুয়োরেজ যোগ দেয়ায় শক্তিশালী হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ জামালের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আবাহনীর জয় এসেছে সুয়োরেজের জোড়া গোলে। সব শেষে হিসাব করলে দেখা যায় পেশাদার লিগের গত ৬টি আসরে মোহামেডান শিরোপা পায়নি। টুর্নামেন্টে পেয়েছে। আবাহনী যদি আজ ফাইনালে উঠতে না পারে তাহলে গত চারটি টুর্নামেন্টের মতো এবার তাদের বিদায় হয়ে যাবে। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে ভাবছেন না দুই দলের কোচ। সামনে কী হবে তা নিয়ে ভাবনায় তারা। কারণ হারলে বিদায়।