পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে বর্তমানে নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সম্বলিত নতুন স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে। এতে একজন নাগরিক ২২ ধরনের সুবিধা পাবেন এবং এই কার্ডের চিপসে ২৫ ধরনের নাগরিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। নতুন কার্ডে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর নাম নেই। নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতেই স্বামীর নামের পরিবর্তে পুরুষের মতো শুধু পিতা-মাতার নাম উল্লেখ থাকার বিধান করা হয়েছে।
দেশের যে কোনো আইন, বিধি-বিধান ইত্যাদি বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা ও বাস্তবতার নিরিখেই হয়ে থাকে। আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় শুধুমাত্র নারীকেই জীবনের বেশিরভাগ সময় শ্বশুরবাড়ি বা স্বামীর ঘরে কাটাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের দেশে যে কোনো বিবাহিত নারীর নামে জমি-জমা, বাড়ি, দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেনাবেচার সময় স্ত্রীর নামের সঙ্গে স্বামীর নাম উল্লেখের নিয়ম চালু রয়েছে। সকল দলিলপত্রেও এভাবেই বিবাহিত নারীদের পরিচয় দেওয়া আছে। নতুন স্মার্টকার্ডে স্বামীর নাম বাদ দিলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। নারী-পুরুষের পরিচয়পত্রের এই বৈষম্য দূর করতে হলে বিবাহিত পুরুষের পরিচয়পত্রে স্ত্রীর নামও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংকে টাকা জমা রাখা ও সঞ্চয়পত্র কেনাসহ অনেক ক্ষেত্রেই একজন নমিনি বা উত্তরাধিকারের নাম উল্লেখ করতে হয়। আর এক্ষেত্রে বিবাহিত নারী-পুরুষ পরস্পরের নাম ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া আমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়ের বিয়ে হয় এক মহল্লা থেকে অন্য মহল্লায়, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে এমনকি এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাবা-মায়ের পরিচয় থাকলেই একজন নারীকে ঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে না। কাজেই স্মার্টকার্ডে বিবাহিত নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে মাতা-পিতার নামের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামই থাকা উচিত। আশা করি নির্বাচন কমিশন বিষয়টি ভেবে দেখবেন।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
