চাকরিদাতার কাছে আপনার প্রতিনিধি হয়েই হাজির হয় সিভি এবং কভার লেটার। তবে এর মধ্যে কভার লেটারটিই মূলত আপনাকে উপস্থাপন করে থাকে তাদের কাছে। তাই কভার লেটারকে হতে হবে স্মার্ট এবং কার্যকরী। এর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টিপস নিয়েই এই লেখাটি লিখেছেন সানজিদা সুলতানা
ভেবে নিন, আপনি একজন অভিনেতা এবং আপনার নিজস্ব এজেন্ট আছে। যখন আপনি কোনো চাকরির জন্য আবেদন করবেন, আপনার এজেন্ট সে প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করবে আপনার পক্ষ থেকে, যে খুব দ্রুত প্রতিষ্ঠানকে আপনার সম্পর্কে আইডিয়া দেবে, বলবে আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সাথে এও বলবে কেন আপনি এ চাকরির জন্য সেরা। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে পার্সোনাল এজেন্ট নিয়োগ একটি বিলাসবহুল বিষয় এবং খানিকটা হাস্যকরও বটে। কিন্তু তাই বলে তোর আর থেমে থাকলে চলবে না। পার্সোনাল এজেন্টের কাজটি কী করে সমাধা করা যায়, সেটার একটি বিকল্প রাস্তাও বের করতে হবে।
পার্সোনাল এজেন্টের বিকল্প হিসেবে এক্ষেত্রে কাজ করতে পারে এমন একটি সহজ ও স্মার্ট পদ্ধতি হলো কভার লেটার, যা আমরা ক্যারিকুলাম ভিটার বা সিভির সাথে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানকে পাঠিয়ে থাকি। এই কভার লেটার খুব সহজেই আপনাকে পরিচয় দেবে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে। আর এই কভার লেটারটিই তাদের কাছে বলবে আপনি তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী কি না। একটি ভালো কভার লেটার হলো মূলত আপনার নিজের বিজ্ঞাপন যা আপনাকে উপস্থাপন করবে প্রতিষ্ঠানের কাছে। পাশাপাশি আপনার সিভি বা কারিকুলাম ভিটার সাথে লিংকও তৈরি করবে এই কভার লেটারটিই। তাই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো কভার লেটার। এটি লিখতে গিয়ে তাই সর্বোচ্চ মনোযোগ এবং শ্রম দেওয়াটা আবশ্যক।
যেমন দেখতে হবে কভার লেটার
আপনার পার্সোনাল এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকলে নিশ্চয়ই চাইতেন সেই এজেস্ট হবে স্মার্ট, দেখতে সুন্দর, পোশাক-আশাকে পরিপাটি এবং তাকে অবশ্যই প্রফেশনাল হতে হবে। পার্সোনাল এজেন্টের বিকল্পে যখন আপনি কভার লেটার ব্যবহার করবেন, তখন আপনার কভার লেটারেও পার্সোনাল এজেন্টের এসব গুণাবলী থাকা বাঞ্ছনীয়। তার মানে আপনার কভার লেটারটি দেখতে পরিপাটি, সুন্দর ও স্মার্ট হতে হবে। এর জন্য ভালো মানের সাদা কাগজে সুন্দর ফন্টে টাইপ করে তৈরি করতে হবে আপনার কভার লেটারটি।
কার্যকরী হতে হবে কভার লেটার
অনেক কষ্ট করে দেখতে সুন্দর একটি কভার লেটার হয়ত আপনি তৈরি করলেন, কিন্তু এর সাথে সাথে এর কার্যকারিতার দিকটি নিয়েও ভাবতে হবে। আপনার পার্সোনাল এজেন্ট যেমন আপনার সকল গুণাবলী তুলে ধরে আপনার বিষয়ে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলেন, তেমনি আপনার কভার লেটারও যেন একই ধরনের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, সেটা খেয়াল রাখুন।
যোগাযোগের ঠিকানা :কভার লেটারে অবশ্যই আপনার সাথে যোগাযোগের ঠিকানার পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করবেন তার নাম, ঠিকানা এবং চাকরির রেফারেন্স অর্থাত্ কোন সূত্র থেকে আপনি এ চাকরির খোঁজ পেয়েছেন তা লিখতে হবে। চেষ্টা করতে হবে কোনো নাম বরাবরে কভার লেটার লিখতে। সূত্রে যদি তার উল্লেখ না থাকে তাহলে প্রতিষ্ঠানে ফোন করে জেনে নিতে হবে কনসার্ন পার্সনের নাম। তার সাথে তার পদবীও লিখতে হবে। আর আপনার সাথে যোগাযোগের যে ঠিকানাটি লিখবেন, সেটি যেন অবশ্যই স্পষ্ট এবং সঠিক হয়, তা খেয়াল রাখবেন। কেননা এই ঠিকানা ভুল বা অস্পষ্ট হলে কিন্তু তারা চাইলেও আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না।
সংযুক্তি :কভার লেটারের শুরুতেই লিখবেন যে আপনি এর সাথে কী কী সংযুক্ত করেছেন। প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মোতাবেক সকল ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে তার তালিকাটি এখানে উপস্থাপন করুন। আপনি কাজের ক্ষেত্রে সংগঠিত এবং কার্যকরী, সেটা বুঝিয়ে দেবে এই অংশ।
পদের কথা :আপনি যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেটি লিখতে হবে এর পরেই। এখানে স্পষ্ট অক্ষরে পদের নাম এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বের কথা লিখতে পারেন।
পদের সাথে যোগ্যতা :আবেদনকৃত চাকরির পদের সাথে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা কী করে সংশ্লিষ্ট হয়, সেটা স্পষ্ট করে বিস্তারিত আকারে লিখতে হবে এই অংশে। নিজের ব্যক্তিগত গুণগুলো এখানে তুলে ধরতে পারেন। তবে এটি লিখতে গিয়ে খুব বেশি বিনয়ের আশ্রয় নেবেন না। বরং আস্থার সাথে শক্তিশালীভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরাই সঠিক উপায়। তবে তা করতে গিয়ে আবার অহংকার করে বসবেন না। এগুলো এমনভাবে লিখতে হবে যেন সেখান থেকে চাকরিদাতা বুঝে নেয় আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহী, ভালো যোগাযোগে অভ্যস্ত এবং মানুষের মাঝে কাজ করতে পছন্দ করেন।
ইতিবাচক কথা লিখুন :কভার লেটারে যতটা পারবেন ইতিবাচক শব্দ এবং বাক্য ব্যবহার করবেন। কোনো প্রয়োজনীয় গুণের ঘাটতি থাকলেও যে সেটি যেকোনো সময় অর্জন করে নিতে আপনি প্রস্তুত, সেটিও লিখে দেবেন।
সদা প্রস্তুত :চাকরিদাতার আহ্বানে আপনি যে যেকোনো সময় সাক্ষাত্কার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, এটি মনে করে অবশ্যই লিখবেন। তাদের আপনি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটি নির্দেশ করবে এই অংশ।
শেষের কথা :কভার লেটারের শেষে ইউর সিনসিয়ারলি লিখে আপনার নাম লিখতে হবে এবং স্বাক্ষর করতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কখনই এক কভার লেটার সব চাকরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিবারই চাকরির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও কর্মপরিধির উপর নির্ভর করে একে সম্পাদনা করে নেবেন। তাহলেই একটি স্মার্ট কভার লেটার আপনাকে হাজির করবে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সামনে। পার্সেনাল এজেন্ট না থাকার দুঃখ তাহলে আর বড় হয়ে উঠবে না।
