চেলসি দুই গোলের ঘাটতিতে থাকার পরও প্যারি সেন জার্মেইকে হটিয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো। অপর খেলায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে ২-০ গোলে হারের পরও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থেকে শেষ চার নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল এ নিয়ে টানা চতুর্থ বছরের মতো সেমিফাইনালে উঠলো। তবে আগের তিনবারই স্পানিশ রাজধানীর দলটি এর চেয়ে বেশি যেতে পারেনি।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এই রাতে মার্কো রিউসের দুই গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারালেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ চারে উঠে স্পনিশ জায়ান্টরা। তাও আবার দলটির সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হাঁটুর ইনজুরির কারণে পুরো খেলাতেই বেঞ্চে বসে ছিলেন। তবে তিনি মাঝে মধ্যেই উঠে দাঁড়িয়ে দলসঙ্গীদের উত্সাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
কোচ হোসে মরিনহোর দল লন্ডনে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত খেলাটির আগে প্যারিসে হেরে এলেও পিএসজির মাঠে এক গোল দিয়েছিল। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান ৩-৩ হলেও বিপক্ষের মাঠে গোলের কৃতিত্বে ইংলিশ ক্লাবটি এই অগ্রগতি অর্জন করে।
পিএসজি গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের খেলাটিতে ১-৩ গোলে পরাস্ত হওয়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা নিয়েই এই রাতে মাঠে নেমেছিল। স্টামফোর্ড ব্রিজের খেলায় ব্লুজরা অবশ্য দারুণ এক লড়াইয়ের পর ২-০ গোলে জিতে গত ১১ বছরের মধ্যে সপ্তমবারের মত সেমিফাইনালে উঠলো। খেলার শেষ মুহূর্তে বদলী খেলোয়াড় ডেম্বা বা’র গোলে চেলসির জয় নিশ্চিত হয়।
মরিনহো এ জয়ের সুবাদে তিনটি ভিন্ন ক্লাবের কোচ হিসেবে ইউরোপীয়ান কাপ জয়ের বিরল রেকর্ড গড়ার আশাও জিইয়ে রাখলেন। যদিও ইনজুরির কারণে পিএসজিতে ছিলেন না তারকা স্ট্রাইকার জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ। এর মধ্যে আবার খেলা শুরুর ১৮ মিনিটের মধ্যে ইডেন হ্যাজার্ডের ইনজুরি চেলসি শিবিরে কালো ছায়া ফেলে। হ্যাাজার্ডের বদলি হিসেবে জার্মান উইঙ্গার আন্দ্রে শুয়েরলে মাঠে নেমে ৩২ মিনিটেই গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন।
বিরতির পর শুয়েরলের শট এবং অস্কারের ফ্রি-কিক বারে না লাগলে খেলার ভাগ্য হয়ত আরো আগেই নির্ধারিত হয়ে যেতো। দুর্ভাগ্য পিএসজির, আরো একবার কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের কপাল পুড়লো। তবে ফরাসি রাজধানীর দলটির সংঘবদ্ধ আক্রমণে উঠতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগেছে। ইয়োহান কাবায়ের পাস থেকে এডিনসন কাভানি পিএসজির পক্ষে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন।
পিএসজি এরপর আর কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং প্যারিসে জন্ম নেয়া ডেম্বা বা ৮৭ মিনিটে সিজার আজপিলিকুয়েটার বল আয়ত্তে নিয়ে চেলসিকে যে দ্বিতীয় গোল উপহার দেন তা থেকেই ব্লুজদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়। কোচের তরফে দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যত উপেক্ষায় থাকলেও মরিনহোকে দেখা যায় গোলটির পরই দৌড়ে গিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে আনন্দে সামিল হতে।
পর্তুগিজ কোচটি খেলা শেষে স্থানীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আজকের এই জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। বিশেষ করে নিজেদেরকে ধরে রাখার যে চেষ্টা তার থেকে এই জয় ছিনিয়ে নেয়া সত্যিই কঠিন ছিল। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পুরো দল নিজেদের সেরা খেলাই খেলেছে।’
অন্যদিকে পিএসজির কোচ লরেন্ট ব্ল্যাঙ্ক বলেন তার দলের জন্য ম্যাচটি দুর্ভাগ্যজনকই ছিল। তার মতে-‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভাল খেলেছি। কিন্তু কোন সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। আমার মতে দুই দলের মধ্যে বিশাল কোন পার্থক্য ছিল না।’
ইংলিশ ক্লাবটি যেমন গত তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মত ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরটির সেমিফাইনালে উঠেছে, তেমনি মরিনহোর সাবেক ক্লাব রিয়ালও ঐতিহ্যগতভাবেই শেষ চারে পৌঁছালো। মরিনহোর দ্বিতীয়বারের মতো চেলসিতে আসার আগে রিয়ালে তিন বছর কাটালেও কোনবারই দলটিকে শেষ চারের উপরে তুলতে পারেননি। কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির দলটির প্রথম লেগে ৩-০ গোলের জয়টি এ দফায় তাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। তা না হলে গতবারের রানার্সআপদের মাঠে তো তাদের হারতেই হয়েছে। তার উপর ১৭ মিনিটে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার স্পট কিক ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক রোমান ওয়েইডেনফেলার বামদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে যেভাবে রক্ষা করেছেন তাতেই রিয়ালের দুর্ভাগ্য নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ২৪ মিনিটে পেপের বাজে একটি ব্যাক হেড থেকে ইকার ক্যাসিয়াসকে ফাঁকি দিয়ে মার্কো রেউস যেভাবে স্বাগতিকদের এগিয়ে দিয়েছিল তাতে মনে হচ্ছিল রিয়াল বোধহয় দুর্ভাগ্যের দিকেই এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে ৩৭ মিনিটে আবারো রিয়ালের ডিফেন্ডারদের ভুলে রবার্ট লেভানডোভস্কির প্লে¬সিং শট ক্যাসিয়াসকে পরাস্ত করে বারে লেগে ফেরত আসে। তা থেকে রেয়াস দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এর পরপরই আকস্মিকভাবে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ডর্টমুন্ড। তবে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। বরং প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকায় শেষ হাসি হাসে রিয়ালই।- বাসস/এএফপি
