আগামী ২৫ মে থেকে ৩ জুন ২০১৪ তারিখে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠেয় ৩১তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাআত ও হিফ্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে যথাক্রমে আবু সালেহ মূসা ও মোহাম্মদ সোবায়েত রাব্বানী নির্বাচিত হয়েছে। গত ৩০ ও ৩১ মার্চ ২০১৪ তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম কার্যালয়ে অভিজ্ঞ বিচারকমন্ডলীর মাধ্যমে প্রার্থীদ্বয়কে নির্বাচিত করা হয়। ১৮-৪০ বছর বয়সের মধ্যে ক্বিরাআত গ্রুপে ২২ জন প্রতিযোগী ও হিফ্য গ্রুপে ৫৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর জনাব আসগার খসরুআবাদী সরেজমিনে নির্বাচনী পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া, ইরান কালচারাল সেন্টারের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের প্রধান ডাঃ জহির উদ্দিন মাহমুদ, লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ আলমগীর ও বিশিষ্ট ক্বারী শেখ আহম্মদ বিন ইউসূফ উপস্থিত ছিলেন। ক্বিরাআত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট ক্বারী হাফেজ আবদুল হক, ক্বারী আবু রায়হান ও ক্বারী রফিক আহমদ এবং হিফ্য প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মুফতী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, হাফেজ মুফতী মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, হাফেজ মুফতী আরীফ উদ্দিন মা’রূফ ও হাফেজ মুফতী এহসানুল হক। ক্বিরাআত প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত প্রতিযোগী হাফেজ ক্বারী আবু সালেহ মূসা ময়মনসিংহের পাটগুদাম এলাকায় ০৮.১০.১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মোঃ নূরুল ইসলাম ও মাতা দিলারা ইসলাম। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহের জামিয়া আরাবিয়া মখযানুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষকতা করেন। তিনি ২০০৯ সালে ভারতের ভূপালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্বিরাআত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। হিফ্য প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত প্রতিযোগী হাফেজ মোহাম্মদ সোবায়েত রাব্বানী যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে ০৭.০১.১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবুল কালাম ও মাতা ফেরদৌসী বেগম। তিনি বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ি মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার নিয়মিত ছাত্র। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ এ নির্বাচনী পরীক্ষার আয়োজন করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নির্দেশনায় দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক লুত্ফর রহমান সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ক্বারী, হাফেজ ও মুফাসসির প্রেরণ করা হচ্ছে। শুরু থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৩ টি দেশে শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের এসব কৃতি সন্তানগণ ইরান থেকে ৩১ লক্ষ ইরানী রিয়াল, ২৭৫ ভরি স্বর্ণ ও ৮০০০ ডলার, মিসর থেকে ৪৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ও ৬,০০০ মিসরী পাউন্ড, মালয়েশিয়া থেকে ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা, সৌদি আরব থেকে ১ কোটি ১৪ লক্ষ ২৪ হাজার ২০০টাকা, তুরস্ক থেকে ২ লক্ষ ৬ হাজার টাকা, দুবাই থেকে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, জর্ডান থেকে ১৭ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, লিবিয়া থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা, আলজেরিয়া থেকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, কুয়েত থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ভারত থেকে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা আর্জন করে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব প্রতিযোগীগণের আরো বেশী অবদান রাখার সুযোগ ছিল। সরকার আন্তরিক হলে ওআইসিভুক্ত সদস্যদেশ হিসেবে বাংলাদেশেও অনায়েসে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারেন।
