বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে আবারো ভারতের ক্ষমতায় নরেন্দ্র মোদির সরকার। আবারো বড় ধাক্কা খেয়েছে বিরোধীদল কংগ্রেস। বলা হচ্ছিলো, এবারের নির্বাচনে আসন কমবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের। কিন্তু তা হয়নি। এর কারণ কি? বলা হচ্ছে গরিববান্ধব কর্মসুচির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে ভালোভাবে সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন নরেন্দ্র মোদি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের মাধ্যমে বিজেপি ভারতের রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পেরেছেন। যা বিজেপির জয়ে ভূমিকা রেখেছে। ভারতের রাজনীতিতে একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত আর তা হলো কোনো একক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেন না। এজন্য একটি দলকে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে ইশতেহার প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করতে হয়। সেক্ষেত্রে বিজেপি সফল হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের কৌশলও বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হয়েছে। বিরোধীরা একটি বিষয়ে জোর দিয়েছে- তা হলো নরেন্দ্র মোদি থেকে মুক্তি। তাদের এই অবস্থান মোদিকে বেশি শক্তিশালী করেছে। কারণ বিরোধীরা মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রেক্ষিতে ইতিবাচক কোনো লক্ষ্য তুলে ধরতে পারেনি।
ভোটের প্রচারণায় মোদির ব্যক্তিত্ব মানুষের কাছে তাকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। মোদির হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদও তার জয়ের অন্যতম একটি কারণ। গত ফেব্রুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ব্যাপারে মোদির বক্তব্যও তাকে নির্বাচনে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।
এবারের নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের প্রচারণাগুলোতে বিজেপির মতো সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়নি। কংগ্রেসের প্রচারণায় কাঠামোগত সমস্যাগুলো জনগণের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের দুরত্ব বাড়িয়েই তুলেছিল। অন্যদিকে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গেও জোট বাঁধতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কংগ্রেস। বিজেপিকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেওয়ার মতো কোনো জোট করতে পারেনি তারা। আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সাথে অভিন্ন ফ্রন্ট গড়ে তোলার ব্যর্থতা ছিল দলটির। এছাড়া উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে কংগ্রেস কোনো প্রকৃত শরিক পায়নি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদির বিকল্প কোনো প্রার্থীকে সামনে আনতে পারেনি কংগ্রেস।
