নারী বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টালে পিছিয়ে পড়বে অর্ধেক মানুষ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০২
‘তৃণমূল নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারীর অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। আর এ জন্য দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার আগারগাঁও এলজিইডি ভবনের সেমিনার কক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’ আয়োজিত ‘সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মেহের আফরোজ বলেন, নারীর উন্নয়নের অন্তরায় পারিবারিক এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী। এ দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে সমাজের অর্ধেক মানুষ পিছিয়ে থাকবে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়। তারপর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভি বলেন, শিক্ষা এবং সাহসের অভাবে নারীরা সামনে এগিয়ে আসতে পারছেন না। রূপান্তর খুলনা এবং বাগেরহাটে তৃণমূল নারীদের এগিয়ে নিতে যেভাবে কাজ করছে দেশের অন্যসব এলাকায় এ ধরনের কাজ হলে নারীদের এগিয়ে যাওয়া সহজ হতো। সুইস দূতাবাসের ডিরেক্টর ড. ডেরেক মূলার বলেন, নারীদের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পেরে এসডিসি গর্ববোধ করে। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, বরাদ্দের বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে নারীদের অভিগম্যতা সৃষ্টি হলেও পরিসংখ্যানের মারপ্যাচে এখানে শতকরা ২৫ ভাগের কম নারী প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে নীতি-নির্ধারকদের ‘তিন ভাগের এক ভাগ’ ফর্মুলা এখানে কার্যকর হয়নি। বর্তমানে ইউপি’র ১৩ জন নির্বাচিতর মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ৩ জন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের প্রত্যাশা পূরণ করে নারী অংশগ্রহণ কার্যকর করতে ইউপি’র সংরক্ষিত আসন বিষয়ে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন রয়েছে। রূপান্তর-এর কো-চেয়ারপার্সন রেখা সাহার সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপান্তর-এর তৃণমূল নারী নেতৃত্ব প্রকল্পের পরিচালক সাফিয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড কো-অপারেশন্স (এসডিসি)-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন লুবনা। প্যানেল আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন স্টেপটুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কামরুল হাসান মঞ্জু, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গর্ভনেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর সিজিএসটি এন্ড লীড রিসার্সার ড. মাহীন সুলতান, খান ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যাত্রী, বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী জামিল আহমেদ।