জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, একাত্তরে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা, লাশ গুম, অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলী জড়িত ছিলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মীর কাসেম চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র, ইসলামী ছাত্র সংঘের কলেজ শাখার সভাপতি এবং একই সাথে চট্টগ্রাম শহর শাখা ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী ও জামায়াতে ইসলামীসহ ডানপন্থি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসাজসে আল-বদর বাহিনী গঠন এবং নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
চট্টগ্রাম শহরের দোস্ত মোহাম্মাদ পাঞ্জাবির বিল্ডিং (চামড়ার গুদাম), সালমা মঞ্জিল, ডালিম হোটেলসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে মীর কাসেম তার সহযোগীদের নিয়ে আল-বদর বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে তোলেন। তদন্তে দেখা যায়, তিনি স্বাধীনতার স্বপক্ষের নিরীহ, নিরস্ত্র লোকদের আটক ও অপহরণ করে ঐ সমস্ত নির্যাতন কেন্দ্রে এনে দিনের পর দিন নির্যাতন করেছেন এবং অনেককে হত্যাও করেছেন। জবানবন্দি শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান। জেরায় একটি প্রশ্নের পর মামলার কার্যক্রম ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগে বিচার চলছে। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৭ জুন তাকে গ্রেফতার করা হয়।
