সোনারগাঁওয়ে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড

মূল হোতাসহ ৫ জন গ্রেফতার

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৫
জমি দখল ও গ্যাস সংযোগ দেয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুন হয়েছেন নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁওয়ে স্থানীয় সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন। স্থানীয় কয়েকজনের অর্পিত সম্পত্তি জাল দলিল করে নিজের নামে লিখে নেয়া এবং দেড়শ’ পরিবারে গ্যাস সংযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে বলে কিলিং মিশনে জড়িতরা র্যাবকে জানিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে র্যাব-১১ এর একটি দল দেলোয়ার হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ইব্রাহিম খলিল (৩২), সক্রিয় সহযোগী জাহাঙ্গীর (৩২), কালাম (৪৫), মনির হোসেন (২৬) এবং আব্বাস আলী (৪৪)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকে হাজির করা হয়। এসময় নিহতের স্ত্রী রেহানা বেগম উপস্থিত ছিলেন। র্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাংবাদিক দেলোয়ারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। কিলিং মিশনে অংশ নেয় সাত থেকে নয়জন। এদের মধ্যে মূলহোতা ইব্রাহিম। এছাড়া প্রথম ইন্ধনদাতা হচ্ছেন কালাম। মূলত খুনের সঙ্গে জড়িতরা দুই গ্রুপের লোকজন। এক গ্রুপ জমির দালালি এবং অন্য গ্রুপ গ্যাস সংযোগের দালালি ও ঠিকাদারী করে থাকে। আর এই দুই গ্রুপের সঙ্গেই নামধারী সাংবাদিক দেলোয়ারের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এক সময় দুই গ্রুপ একত্র হয়ে তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে। উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, দেলোয়ার স্থানীয় সাংবাদিক হলেও এলাকায় তার জমি কেনাবেচা, দালালি এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। ২৮ মার্চ ঘটনার রাতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন দেলোয়ার। পথে একটি স্টীল মিলের পাশে নতুন রাস্তায় ইব্রাহিম তার পথরোধ করেন। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ইব্রাহিম দেলোয়ারকে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেন। তাত্ক্ষণিক আশপাশে লুকিয়ে থাকা অন্যরা এসে সংঘবদ্ধভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেলোয়ারকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায়।