শ্রমিকদের নিরাপত্তায় পদক্ষেপে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রদূত ও ক্রেতারা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২০
তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি ক্রেতারা। পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সংখ্যা অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বেশি হওয়াকেও তারা ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন। একইসঙ্গে তারা শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি, কারখানার ত্রুটি সংশোধান ও মজুরিসহ কয়েকটি বিষয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে রানা প্লাজা ধসের পর কমপ্লায়েন্সের (কারখানায় কর্মপরিবেশ) অগ্রগতিতে নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে বিজিএমইএ। এক বছরের কারখানার সামগ্রিক অগ্রগতি রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠনটি। বৈঠকে কানাডার রাষ্ট্রদূত হিদার ক্রুডেন, মার্কিন দূতাবাসের উপ-প্রধান জন ড্যানি লুইস, জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেখট কনজেসহ ১৪টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডিসহ উন্নয়ন সংস্থা ও বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত হিদার ক্রুডেন বলেন, গত এক বছরে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেশকিছু অগ্রগতি হয়েছে, যা খুবই ইতিবাচক। কিন্তু এটাও সত্য যে, অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রত্যাশাটাও অনেক বেশি ছিল। তিনি বলেন, কারখানা পরিদর্শন, ত্রুটি সংশোধন এবং সর্বোপরি কমপ্লায়েন্স ইস্যুর মত জটিল বিষয়ে সমন্বিত উপায়ে ও একযোগে কাজ করতে হবে। অবশ্য গত এক বছরের কর্মকাণ্ডে তাদের সন্তুষ্টির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কৌশলী হিদার ক্রুডেন বলেন, শ্রমিকরা সন্তুষ্ট হলেই আমরা সন্তুষ্ট হবো। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম গত এক বছরে কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে তাদের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। ট্রেড ইউনিয়নের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, গত এক বছরে ১২৩টি ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। আর এর আগের ১২ বছরে এই সংখ্যা ছিল ৩৮টি। অর্থাত্ বাধাহীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হচ্ছে। আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতির বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, তারা বলছেন তারা (মালিকপক্ষ) ট্রেড ইউনিয়নের বিপক্ষে নন। এই বার্তা সঠিকভাবে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করি। এছাড়া রানা প্লাজায় পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যে আইএলও’র তত্ত্বাবধানে চার কোটি মার্কিন ডলারের একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই ফান্ডে ইতিমধ্যে অনেক ব্র্যান্ড অর্থ প্রদান করেছে। আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া কারখানা পরিদর্শনে বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিদর্শক দল কোন কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত দেয় না। ত্রুটি পাওয়া গেলে পর্যালোচনা কমিটি তাদের মতামত জানায় এবং কলকারখানা পরিদর্শক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। তবে এ বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সঠিক উপায়ে যোগাযোগ করা এবং কারখানা বন্ধের বিষয়টি যে সাময়িক তা তাদের বুঝানোর চেষ্টা করা উচিত। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা নি:সন্দেহে এই খাতকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। আমরা কারখানা মালিকদের সমালোচনা করতে পারি বা পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ভালোই আমাদের ভালো। এই খাত ছাড়া অর্থনীতি চিন্তা করা যায় না। সামপ্রতিক কয়েক বছরে দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় গার্মেন্টস খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এ সময় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, অর্থনীতিবিদ মামুন রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।