পৃথিবীতে তো অনেক সমুদ্রই দেখেছেন। কিন্তু কল্পনা করেছেন কখনও অন্যগ্রহে সমুদ্রের অস্তিত্ব? আর যদি বলা হয় মহাসমুদ্র? শনির ষষ্ঠ বরফাবৃত উপগ্রহ এনসেলাডাসের অভ্যন্তরে এমনই এক মহাসাগরের সন্ধান পেয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ফলে সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের প্রবল সম্ভাবনা আছে বলে ধারণা করছেন তারা।
এই এনসেলাডাসের অভ্যন্তরে প্রথমবারের মতো জলের আভাস পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ডেভিড স্টিভেনসন বলেন, ‘২০০৪ সালের জুলাইয়ে ক্যাসিনি নামের মহাকাশযানটি প্রথমবার পা রাখে শনির ৫০০ কিলোমিটার ব্যাসবিশিষ্ট উপগ্রহ এনসেলাডাসে। উপগ্রহটির দক্ষিণ মেরুর বরফের ফাটল দিয়ে প্রচুর জল বেরিয়ে আসার কারণ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য মেলে তখন। সেই সময়ই সন্দেহ করা হয়েছিল যে এনসেলাডাসের অভ্যন্তরেও হয়তো জলই আছে তরলাকারে।’ আর তারপর থেকেই চলছিল গবেষণা। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এনসেলাডাসের মহাসাগর রয়েছে। সম্প্রতি ‘জার্নাল সায়েন্স’ নামক ম্যাগাজিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এনসেলাডাস হচ্ছে শনির ষষ্ঠ বৃহত্তম উপগ্রহ। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান এবং ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের যৌথ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এনসেলাডাসের বরফের পুরু চাদরের গভীরে মহাসাগরটির গভীরতা অন্তত ১০ কিলোমিটার। যার উপরিভাগের ক্ষেত্রফল উত্তর আমেরিকার লেক সুপিরিয়রের চেয়েও বেশি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ৩০-৪০ কিলোমিটার পুরু বরফে ঢাকা মহাসাগরটির জলের স্বাদও নোনতাই। এনসেলাডাসের মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র নিয়ে যে ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে, তাতেই বের হয়ে এসেছে এই সব তথ্য। এখন শনির অন্য উপগ্রহগুলোতেও জলের খোঁজ মিলতে পারে বলে আশা জেগেছে বিজ্ঞানীদের।
