বৈচিত্র্যময় এ জগতে নানা ধরনের প্রাণীর বসবাস। সাগর তলের প্রাণিজগতের বৈচিত্র্য আরও বিস্ময়কর। সাগরতলের একটি বিস্ময়কর প্রাণীর নাম বিদ্যুত্ মাছ। ইংরেজিতে এই মাছকে বলা হয় ‘ইলেক্ট্রিক ফিশ’। ইলেক্ট্রিক ফিশ বা বিদ্যুত্ মাছ এমনই একটি মাছ, যেটা বিদ্যুত্ উত্পন্ন করতে পারে। একটি ইলেক্ট্রিক ফিশ তার বৈদ্যুতিক অঙ্গের শক দ্বারা একটি শক্তিশালী ঘোড়াকে মুহূর্তের মধ্যে কাবু করে ফেলতে পারে। বৈদ্যুতিক মাছের দেহকোষে এমন এক ধরনের পদার্থ থাকে যাতে এই মাছ ভয় পেলে বা শত্রুকে আক্রমণ করার সময় কোষ থেকে বিদ্যুত্ উত্পন্ন করতে পারে। লোনা ও স্বাদু উভয় ধরনের পানিতে বিদ্যুত্ মাছ পাওয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাগর ও নদীর স্বচ্ছ পানিতে এ মাছ পাওয়া যায়। বিভিন্ন জাতের বৈদ্যুতিক মাছের মধ্যে একেক জাতের বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা একেক রকমের। ইলেক্ট্রিক ইল নামক মাছ শুধু রাতের বেলায় শিকার খুঁজতে বের হয়। এর ইলেক্ট্রিক শকের ক্ষমতা এত বেশি যে বড় প্রাণীও ঘায়েল হয়ে যায়। দক্ষিণ আমেরিকার নদনদীতে এবং খালবিলে এই বিপজ্জনক মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। বিদ্যুত্ মাছ তার বিশেষভাবে গঠিত যে অঙ্গ থেকে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র উত্পন্ন করে তাকে বলা হয় ইলেক্ট্রিক অর্গান বা বৈদ্যুতিক অঙ্গ। এই অঙ্গ পরিবর্তিত পেশি বা স্নায়ুকোষ দ্বারা বিশেষভাবে গঠিত শুধু বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করার জন্যই। এই বৈদ্যুতিক অঙ্গ বিদ্যুত্ মাছের লেজে অবস্থিত। শক্তিশালী ইলেক্ট্রিক রে ফিশ ১০ থেকে ৫০০ ভোল্ট বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারে। যেমন—ইলেক্ট্রিক ইল, ইলেক্ট্রিক রে, ইলেক্ট্রিক ক্যাটফিশ। বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত প্রায় তিন শ রকম মাছের সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলো ০.২ থেকে ২ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পন্ন করতে সক্ষম। এগুলো সাধারণত নিরীহ প্রকৃতির এবং চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে। তবে প্রকৃতিগতভাবে ভয়ঙ্কর।
