মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা-বাসি খাবার বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবারও পচা-বাসি খাবার বিক্রির অপরাধে রাজধানীর সাত অভিজাত রেস্টুরেন্টকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রেস্টুরেন্টগুলো হলো— ক্রিমসনকাপ ক্যাফে, সুচিলি, ধানমন্ডি ক্যাফে, বিয়ে বাড়ি, স্যান্ডইউক, হাক্কা ঢাকা, লাইলাতি রেস্টুরেন্ট ও পিন্টু মিয়ার ইফতারি। রেস্টুরেন্টগুলো থেকে পচা ও বাসি খাবার জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মশিউর রহমান। অন্যদিকে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল ও ইন্দ্রানী রায়।
ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ধানমন্ডির অভিজাত ক্রিমসনকাপ ক্যাফেতে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ বিক্রি করা হচ্ছিল যার মেয়াদ গত বুধবার শেষ হয়। এছাড়াও ক্রিমসনের নিজস্ব বিস্কুটে বিএসটিআইয়ের লোগো লাগানো এবং সেটিতে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় ধানমন্ডির অভিজাত রেস্টুরেন্ট হাক্কা ঢাকার রান্নাঘরে দেখা যায় নিষিদ্ধ ডুডল নুডলস আর মোল্লা সল্টের লবণের প্যাকেট। এগুলো দিয়ে খাবার তৈরি করায় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া পচা-বাসি খাবার রাখা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনের নাহার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে দেখতে পায়, ক্যাফে ধানমন্ডি, সুচিলি রেস্টুরেন্ট ও বিয়ে বাড়ি রেস্তোরাঁয় নোংরা অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘরে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে পচা-বাসি ইফতার। ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছে রান্না করা খাবার। তাতে ফাঙ্গাস ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এসব অপরাধে রাজধানীর এই তিনটি রেস্টুরেন্টকে এক লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া একই এলাকার লাইলাতি রেস্টুরেন্ট ও পিন্টু মিয়ার ইফতারিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
