রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ব্যর্থতার কারণেই ঢাকা বসবাসের অযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বক্তারা।
বৈঠকে ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাঠামোকে ফের ঢেলে সাজাতে হবে। নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। রাজউকের নীতিমালা বেআইনি কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাছাড়া রাজউকের প্লট ও ফ্ল্যাট ঢাকা শহরের আবাসিক সমস্যা সমাধানের চেয়ে জমির কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ঢাকা মহানগরীর বসবাসযোগ্যতা, রাজউকের ভূমিকা ও কাঠামো’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবাহান বলেন, ঢাকাকে বসবাসযোগ্য এবং পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব রাজউকের। কিন্তু, রাজউক এ দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রাজউকের ব্যর্থতার কারণেই ঢাকা শহর আজ বসবাসের অযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সবুজের নগরী ঢাকা এখন যানজট এবং পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা শহরের জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। এ নদীর ?পানি দূষণ একটি মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে রাজউক পরিকল্পনা হাতে নিলেও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আকতার মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে উন্নয়নের নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং, নগর পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে রাজউকে। তাছাড়া ৯৯ শতাংশ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদন পরিকল্পনা মানা হয় না।
ঐক্য ন্যাপের চেয়ারম্যান পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, রাজউক দখলদার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। পুরো বাংলাদেশই আজ দখলদার, লুটপাটকারীদের হাতে চলে গেছে। সেখানে রাজউকের ভূমিকা রাষ্ট্রীয় চরিত্রের বাইরে থাকার কথা নয়।
গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট অধ্যাপক আবু সাইদ আহমেদ, প্রফেসর রোখসানা হামিদ, অধ্যাপক ড. সরওয়ার জাহান প্রমুখ।
