স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা একেবারেই কম। অনেকে স্ট্রোককে হার্ট অ্যাটাক বলে থাকেন। অবশ্য ইসকেমিক স্ট্রোক অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মতই। স্ট্রোককে অনেক সময় ব্রেইন অ্যাটাকও বলা হয়ে থাকে। শুধুমাত্র মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেই যে স্ট্রোক হবে তাই নয়। স্ট্রোক সাধারণত: দু’ধরনের।
এক: ইসকেমিক স্ট্রোক। অনেক সময় মস্তিষ্কের রক্তনালীতে কোন অংশে যদি রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এধরনের স্ট্রোককে ইসকেমিক স্ট্রোক বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধেও স্ট্রোক হতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কের রক্তনালীতে চর্বি বা কোলেস্টেরল জমে মস্তিষ্কের রক্তনালী বন্ধ বা সরু করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোট স্ট্রোকের শতকরা ৮০ ভাগই ইসকেমিক স্ট্রোক।
দুই: হেমোরেজিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কের রক্তনালী যখন ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় তখন এধরনের স্ট্রোককে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলা হয়। এধরনের স্ট্রোক অত্যন্ত বিপজ্জনক। এধরনের স্ট্রোকের প্রধান কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ এবং অ্যানিউরিজম অর্থ্যাত্ মস্তিষ্কের রক্তনালী দুর্বল ও পাতলা হয়ে গেলেও এটা ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
সাধারণত: আকস্মিক মুখ ও হাত-পায়ের পেশী দুর্বল হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, কথা বলতে জড়তা আসা, আকস্মিক তীব্র মাথা ব্যথা, শরীরে ভারসাম্য হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ। এধরনের সমস্যা হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, শরীরে অতিরিক্ত ওজন, মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান ও করনারী হূদরোগ স্ট্রোকের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞগণের মতে, সতর্ক থাকলে ৫০ ভাগ স্ট্রোকেই প্রতিরোধ করা যায়।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
