বৈশাখের রঙে...

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৫৭
আবহমান কাল থেকে বাঙালির চিরন্তন সার্বজনীন পার্বণ বাংলা নববর্ষ। বাঙালি ও বাংলা নববর্ষ বিকল্পহীন এক অভিযাত্রা। এই সময়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে আনন্দে উদ্বেল হয় নববর্ষে। উত্সব, লোকাচার, কারুশিল্প, সংস্কৃতি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, নববর্ষের নতুন পোশাক এবং ভোরের আলোয় নববর্ষের সূর্যোদয় সবই উদযাপনের আকাঙ্ক্ষায় উন্মুখ থাকে সবাই। বৈশাখী আলোতে ফ্যাশনপ্রেমীদের রাঙাতে ফ্যাশন হাউসগুলো তৈরি করে নান্দনিক সব পোশাক। বৈশাখের ফ্যাশন নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনে শুধু উত্সবের আনন্দই বয়ে আনে না, দেশপ্রেমেও উদ্বুদ্ধ করে। বাঙালি ও বাংলা নববর্ষ বিকল্পহীন এক অভিযাত্রা। বাতাসে ধুলোর সঙ্গে যতই মিশে থাকুক রিক্ততা, তবু যেন এই দিনটি আপনাকে দেবে এক লাল সূর্যের প্রতিশ্রুতি। বৈশাখ মানে লাল-সাদার মিশেল। বৈশাখ শুধু লালকে ধারণ করে না; বরং পুরো বিশ্বের কাছে আমাদের রঙিন হওয়ার ঐশ্বর্যকে প্রথম মাত্রা দেয়। তাই বহুকাল ধরেই লাল-সাদার ধারাবাহিকতায় এই বৈশাখেও আপনার দিনটি হোক লালের সম্ভাবনায় উজ্জ্বল, লালের ঐশ্বর্যে সুখময় আর লালের দীপ্তিতে রঙিন। বৈশাখের প্রথম দিনে ঘরে বসে তো আর থাকা যায় না। ভোরের আলো ফুটতেই সাজসজ্জা শুরু হয় তরুণীদের মধ্যে। বৈশাখে বাঙালি মেয়েরা শাড়ি পরেন। অনেকেই এর জন্য পয়লা বৈশাখের অপেক্ষায় থাকেন। আর বৈশাখ এলেই গায়ে ওঠে পাটভাঙা তাঁতের শাড়ি। সেই শাড়িতে লাল-সাদার সীমাবদ্ধতায় থাকতে রাজি নয় এখন কেউই। লাল ও সাদা তো থাকবেই, সঙ্গে থাকতে হবে অন্যান্য রং। কিংবা অন্যকোনো রঙের শাড়িতে সেজে কপালের টিপ আর হাতের চুড়িটা সবাই লাল পরবেন। অথবা শাড়িতে চাই কোনো বাঙালি মোটিফ। গরম, অনভ্যস্ততার কারণে শাড়িতে স্বস্তি বোধ করেন না অনেকেই। তারা অনায়াসে পরতে পারেন সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তা-চুড়িদার। পোশাকের নকশা, কাটে ভিন্নতা আনা যেতেই পারে। আর সাজটাও তো হতে হবে মানানসই। লম্বা বেণি, টিপ আর চুড়িতে থাকবে বৈশাখী আমেজ। বর্তমানে লম্বা কুর্তা, কামিজের সঙ্গে এই বৈশাখে চুড়িদার সালোয়ার বেশ চলছে। তরুণীদের পছন্দের তালিকায় বৈশাখের পোশাকের চিরায়ত রং লাল-সাদার পাশাপাশি সবুজ, নীল, কমলা ও ম্যাজেন্টার মতো উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে। কামিজের কাট, নকশাতেও খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। একটু ঘেরওয়ালা ফ্রক-কাট কামিজ, লম্বা কুর্তা বা কামিজের হেমে ভি-কাট, পাশাপাশি আনারকলি কামিজ, অ্যালাইন কামিজের চল রয়েছে। হাতায়, গলায় ও হেমে পাইপিং, লেইস ব্যবহার করতে পারেন। হাতকাটা, খাটো হাতা, ঘটিহাতা, এমনকি ফুলহাতা কামিজ পরা যেতে পারে। সুতির পোশাকই গরমের জন্য আরামদায়ক হবে। তবে রাতে বের হলে অ্যান্ডি, সিল্ক কিংবা মসলিনের পোশাক পরতে পারেন। তবে যে পোশাকই পরুন না কেন, মাথায় রাখতে হবে, আপনি সেই পোশাকে কতটুকু স্বচ্ছন্দ। বৈশাখকে ঘিরে তরুণদের চাহিদার মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, বৈশাখী শার্ট, গামছাসহ কিছু নতুন ও ব্যতিক্রমী প্রসাধনী সামগ্রী। ফতুয়ায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঢোল, একতারার ডিজাইনগুলো এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ও নজরকাড়া। আর সেদিকেই ঝুঁকছেন অধিকাংশ ফ্যাশন সচেতন পুরুষ। পাঞ্জাবির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়টাতে থাকে একটু বেশি। বাঙালি বলে কথা। তাই পোশাকেও থাকতে হবে বাঙালির ঐতিহ্য। আর তাই হাতে হাল্কা লাল রঙের কাজ, গলা ও পিঠে সাদামাটা লালের ছটায় বর্ণিল পাঞ্জাবিগুলোর চাহিদা বেশি। সাজতে পছন্দ করে না এমন মেয়েদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। উত্সব এলে তো কথাই নেই। নতুন পোশাক থাকা চাই। তাতে থাকা চাই বিশেষ দিনের বিশেষ ডিজাইন। বৈশাখ এলে তো লাল-সাদার ছড়াছড়ি। তপ্ত রোদে সাদা রঙের পোশাক তাপ শোষণ করে। আর তাই সবার নজর থাকে সাদার দিকে। বাঙালির এই প্রাণের উত্সবে ভোর বেলা যেমন আপনি শামিল হতে পারেন, তেমনি দুপুরের রোদ খানিকটা কমে আসলে আপনি ছুটে যেতে পারেন উত্সবের কেন্দ্রগুলোতে এই আয়োজনের একজন হয়ে। শুধু এই দিনটিতে নয়; বরং প্রাণের টানে আর নিজের ঐতিহ্যের গর্বে নিজস্ব চেতনায় আপনি বাঙালিয়ানাকে ছড়িয়ে দিতে পারেন আপন ঐশ্বর্যে। বৈশাখের পোশাকগুলো পেতে আপনি চলে যেতে পারেন বসুন্ধরার দেশি দশে, মেট্রো শপিং মল, আজিজ সুপার মার্কেট, মিরপুর ১০, অঞ্জনস, কে-ক্র্যাফট, রঙ, নগরদোলা, ক্যাটস আই, নারীমেলা, অন্যমেলা, চরকা, নকশা, মেনজক্লাবসহ অন্যান্য ফ্যাশন হাউসগুলোতে।