মঙ্গল শোভাযাত্রা

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৪০
হাঁস থাকবে। বাঘ, হরিণ এবং মাছও থাকবে। বাদ যাবে না পুতুল, ময়ূর কিংবা বিড়ালও। থাকছে মুখোশ, হাত পাখা থেকে শুরু করে শখের হাঁড়িও। এবার পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় থাকছে এসব শিল্পকর্ম। আরও থাকছে জলরঙসহ নানা মাধ্যমের চিত্রকর্ম। আর এই আয়োজনের সঙ্গে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে একঝাঁক তরুণ প্রাণ। তাদের এখন দম ফেলারও ফুসরত নেই। চারুকলার ডিন অধ্যাপক আবুল বারাক আলবি বলেন, প্রতি বছরই আমরা সমাজের অপশক্তিকে প্রতিহত করতে একটি প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা করি। এ বছর সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে জাগ্রত হয়ে মাথা, হাত উঁচু করে নির্ভয় হওয়ার আহ্বান জানানো হবে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। জানা যায়, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। এটা অনেকটা ঐতিহ্য হয়ে গেছে। ঢাক-ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র ও বিচিত্র চারুকর্মে সুসজ্জিত এই শোভাযাত্রার ইতিহাস খুব একটা পুরনো নয়। ১৯৮৬ সালে যশোরে চারুপীঠ নামের একটি সংগঠন প্রথমবারের মতো বর্ষবরণ করতে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ১৯৯৫ সালের পর থেকে এই আনন্দ শোভাযাত্রাই মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিতি পায়। চারুকলা ঘুরে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এ বছর তুলে ধরা হবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির নানান দিক। হাতি, ঘোড়া সাম্পানের কাঠামো তৈরি হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বিত অংশগ্রহণে তৈরি হচ্ছে সরা, মুখোশসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। প্রতিবছরের মতো এবারও মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের অনুদান নেয়া হয়নি। নিজেদের আঁঁকা শিল্পকর্ম বিক্রি করেই আয়োজনের তহবিল তৈরি করা হচ্ছে। শিল্পকর্মের কাঠামো তৈরির ও কাগজ লাগানোর কাজও প্রায় শেষ। বাকি শুধু তুলির আঁঁচড়ে রাঙিয়ে তোলা। আয়োজনের সঙ্গে থাকা চারুকলার ছাত্র ওবায়দুল ইসলাম মিঠু জানান, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাঁসকে প্রাধান্য দেয়া হলেও বরাবরের মতো বাংলা সংস্কৃতির সবকিছুই থাকবে। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে থাকছে সরাচিত্র, খেলনা, মা ও শিশু, মাছের ঝাঁক, লক্ষ্মী পেঁচাসহ আরও নানান শিল্পকর্ম। আয়োজকদের একজন অনি কর। তিনি বলেন, শোভাযাত্রাটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়। ১৪ মার্চ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু হয়। বরাবরের মতো এবারও শোভাযাত্রাটি সকাল ৯টায় চারুকলার সামনে থেকে শুরু করে শিশু একাডেমি হয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে শেষ হবে। আয়োজনের সঙ্গে আছেন কোহিনূর আক্তার বিথি। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন আমাদের কয়েক হাজার টাকার সরা, পাখি, মুখোশ বিক্রি হচ্ছে। এই তহবিল দিয়েই আমরা শোভাযাত্রার কাজ পরিচালনা করছি। মঙ্গল শোভাযাত্রায় তুহিন পাখির উদ্ভাবক তুহিন রায় বলেন, শোভাযাত্রায় নতুন কিছু যুক্ত করার অভিপ্রায় থেকে পাখি তৈরি করি। যার নাম হয় তুহিন পাখি। তুহিন পাখির মূল্য ৩০ টাকা থেকে ধরন ও আকারভেদে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। একমনে কাজ করছিলেন তাপস চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রস্তুতিতে বেশ জোর আছে। তাই কারো চোখে ঘুম নেই। প্রতিবারের মতো এবারো বাঙালি তার ভেতরে লালিত সংস্কার আর সংস্কৃতির মিশেলে পালন করবে এই উত্সব। দিনটিকে বরণ করতে আকুল গোটা জাতি। তিনি আরোও বলেন, শিক্ষকরা আমাদের নির্দেশনা দেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। এছাড়া অন্যান্য বারের মতো এবারও শোভাযাত্রা তদারকির দায়িত্বে রয়েছে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা। চারুকলার সহকারী অধ্যাপক গুপু ত্রিবেদী বলেন, বর্ষবরণের এই আয়োজনের বিশেষ একটি দিক দেয়ালচিত্র। ২০ থেকে ২৫ জন মেধাবী চারুশিল্পী বিশেষ করে যারা অধ্যয়নরত তারা এই দেয়ালচিত্রে সাহায্য করে। এবার জয়নুল আবেদিন ও পটুয়া কামরুল হাসানের কিছু কালজয়ী চিত্রকর্ম অনুকরণে দেয়ালচিত্র করার চিন্তা করছি।